সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় বিনাধান-২৩ এর মাঠ দিবস: চলতি আমন মৌসুমে প্রথম ধান কাটা শুরু

  ডেস্ক রিপোর্ট ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৪:৩৫:৫৩ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরা জেলার কৃষকরা নতুন আশার আলো দেখছেন উচ্চফলনশীল ও লবণাক্ততা সহনশীল বিনাধান-২৩ জাত চাষে। চলতি আমন মৌসুমে প্রথমবারের মতো এই ধান কর্তনের মাধ্যমে শুরু হলো মৌসুমের প্রথম আমন ধান কাটা।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের ছনকা গ্রামে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উপকেন্দ্র সাতক্ষীরার উদ্যোগে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ধান কর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ধান উৎপাদনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা। বিনাধান-২৩ এসব প্রতিকূলতা সহ্য করতে সক্ষম হওয়ায় কৃষকদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় জাত। এটি সল্প খরচে অল্প সময়ে অধিক পরিমানে উৎপাদন হয়ে থাকে। আমন মৌসুমে অন্য জাতের তুলনায় ১৫ দিন আগে ধান কর্তন করা যায়। এর পর অগ্রীম সরিষাসহ অন্য ফসল চাষ করা সম্ভব। এই অঞ্চলের আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় আগামীতে এই জাতের ধান চাষ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজই প্রথম এই জাতের ধান কর্তনের মধ্যে দিয়ে চলতি আমন মৌসুমে ধান কর্তন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিনা উপকেন্দ্র সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো: কামরুজ্জামান, সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: মশিউর রহমান এবং মিলন কবীর। স্থানীয় কৃষকরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন মাঠ দিবসে।

ছনকা গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, এই ধানটা আমাদের এলাকার জন্য অনেক ভালো। সল্প লবণাক্ত আর জমে থাকা জমিতে এর চাষে কোনো সমস্যা হয় না। খরচ কম, ফলনও বেশি। জৈব সার ব্যবহার করলে রাসায়নিক সার ও কিটনাশক খুবই কম লাগে। আগের আমন ধানের চেয়ে এবার অধিক ফলন পেয়েছি। এবার এক বিঘা জমিতে চাষ করলেও আগামী বছর আরো ৫ বিঘা জমিতে চাষ করব।

একই এলাকার অন্য এক কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, আগে আমরা চিন্তায় থাকতাম, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জমিতে পানি ঢুকলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু এবার বিনাধান-২৩ চাষ করে দেখি ১৫ দিন পানির নিচে থেকেও ক্ষতি হয়নি। এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

বিনা উপকেন্দ্র সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো: কামরুজ্জামান বলেন, বিনাধান-২৩ মূলত জোয়ারভাটা ও লবণাক্ত এলাকায় কৃষকদের জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর জীবনকাল মাত্র ১১৫ থেকে ১২৫ দিন। তবে সাতক্ষীরায় মাত্র ১১২ দিনে ধান কাটা হচ্ছে। ফলে কৃষকরা কম সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারে। তাছাড়া কম সার ও কম সেচ দিয়েই ভালো ফলন হয়, যা কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে দেয়।

তিনি আরও জানান, এই জাত ৮ ডিএস/মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এবং ১৫ দিন পর্যন্ত জলমগ্ন অবস্থায় টিকে থাকতে সক্ষম। ফলে সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার বলেন, উপকূলীয় কৃষকরা বরাবরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিনাধান২৩ যদি ব্যাপকভাবে চাষ হয়, তবে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং ধান উৎপাদনও বাড়বে। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জাতের ধান উপকূলীয় অঞ্চলে ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হলে ধান উৎপাদন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কৃষকরা কম খরচে বেশি ফলন পেয়ে স্বাবলম্বী হবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা জানান, বিনাধান-২৩ এর ফলন ও সহনশীলতা দেখে তারা আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এই জাতের ধান চাষ করতে আগ্রহী।

আরও খবর