কালিগঞ্জ প্রতিনিধি ১১ নভেম্বর ২০২৫ , ২:১৯:৫৩ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ–আশাশুনি) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় নারী নেত্রী ও কর্মীরা। কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিক্ষোভ সমাবেশে শত শত নারী নেতাকর্মী অংশ নেন।
“ডা. শহিদুল আলমকে মনোনয়ন দিতে হবে, দিতে হবে”—এই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কালিগঞ্জের কাকশিয়ালী ব্রিজের দক্ষিণ পাশ। বিক্ষোভকারীরা বলেন, দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ও আন্দোলনের ঢেউ বইছে। তাদের অভিযোগ, কাজী আলাউদ্দিন দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তার পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গরিব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা প্রদানকারী জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. অধ্যাপক শহিদুল আলমকেই ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশব্যাপী প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করার পরই সাতক্ষীরা-৩ আসনে প্রতিবাদ শুরু হয়। ওই রাতেই শহিদুল আলমের জন্মভূমি নলতায় প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই হরতাল, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলতে থাকে প্রতিদিন।
বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, জনদুর্ভোগও বেড়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি—ধানের শীষের মান ও মর্যাদা রক্ষায় ডা. শহিদুল আলম ছাড়া বিকল্প নেই। নারী বক্তারা বলেন, “ডা. শহিদুল আলম তিন দশক ধরে দলমত নির্বিশেষে গরিবের বন্ধু ও জনসেবার প্রতীক হয়ে কাজ করছেন। বিএনপির প্রকৃত জনপ্রিয় প্রার্থী তিনিই।”
তারা আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি কেন্দ্র থেকে কাজী আলাউদ্দিনের পরিবর্তে ডা. শহিদুল আলমকে মনোনয়ন না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা ভোট বর্জনসহ লাগাতার আন্দোলনে নামব।” বক্তারা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনে ডা. শহিদুল আলমকেই ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে।
অন্যদিকে, মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিন তার নির্বাচনী এলাকা কালিগঞ্জ ও আশাশুনিতে গণসংযোগ, সভা ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ের পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন এবং এবারও জনগণের সেবা অব্যাহত রাখতে চান।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা। বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন হবে কিনা—সেই প্রশ্নেই দিন গুনছেন ডা. শহিদুল আলমের সমর্থক ও ভক্তরা। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, আগামীকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) কালিগঞ্জ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

















