আশাশুনি

কার্লভাট ভেঙে বিপদজনক গর্ত, আশাশুনি-বড়দল সড়ক এখন মরণফাঁদ!

  আবু হাসান চঞ্চল, আশাশুনি প্রতিনিধি: ১৩ জুলাই ২০২৫ , ৩:২৪:২৩ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মানিকখালী ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে বড়দল পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটি বর্তমানে ভয়াবহ দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। গোয়ালডাঙ্গা এলাকায় সামাদ গাজীর বাড়ির পাশে এবং ফকরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত দুটি কার্লভাট ধসে পড়ে বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে প্রতিনিয়ত যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

বড়দল ইউনিয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য এটি একটি প্রধান যাতায়াত পথ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও অরক্ষিত সড়কটির এখনকার অবস্থায় স্বাভাবিক চলাচল এক প্রকার অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কার্লভাট দু’টি ধসে গর্ত তৈরির পর সড়কের বিভিন্ন অংশেও ফাটল দেখা দিয়েছে। গর্তে পড়ে একাধিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। হেঁটে চলার সময় পথচারীদের পা গর্তে আটকে গিয়ে চোট পেয়েছেন এমন ঘটনার সংখ্যাও কম নয়। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে—রাতের বেলায় সড়কে আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় গর্তটি অনেক সময় চোখে পড়ে না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণে বাড়ে।

ফকরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিতা মণ্ডল বলেন, “প্রতিদিন আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই গর্ত পেরিয়ে যাতায়াত করে। গর্তের পাশে বাস আটকে যায়, তখন রাস্তার দুইপাশে জ্যাম লেগে যায়, ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। ছোট ছোট শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ছুটির সময় গর্তে পড়ে গেলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক অভিভাবক আতঙ্কে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না। শিক্ষার পরিবেশে এমন প্রতিবন্ধকতা অত্যন্ত হতাশাজনক।”

স্থানীয় কৃষক আব্দুল খালেক জানান, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা নিত্যদিন হাটে যাই, ধান, সবজি নিয়ে যাই। গর্তে পড়ে অনেক সময় মালামাল নষ্ট হয়। বড় যানবাহন চলাচলের সময় রাস্তা ধসে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।”

পথচারী রাশেদা খাতুন বলেন, “সন্ধ্যার পর এই সড়কে হাঁটা মানে জীবন হাতে নিয়ে চলা। অনেকেই গর্তে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে। অথচ কেউ এই গর্ত মেরামত করার মতো ব্যবস্থা নেয়নি।”

রাস্তার অবস্থাও দিনে দিনে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত বা জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের পাশ দিয়ে পানি জমে, যা ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে। রাস্তাটির প্রশস্ততাও কম, ফলে গাড়ি ক্রসিংয়ের সময় যানজট ও সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকেই যায়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এ বিষয়ে বহুবার মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ একে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

এদিকে এলাকাবাসী ও পথচারীরা জানান, তারা আর অপেক্ষা করতে পারছেন না। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে গর্ত চিহ্নিত করে বাঁশ বা লাল কাপড় দিয়ে সতর্কতা চিহ্ন বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই অস্থায়ী উদ্যোগ কোনো কাজে আসবে না বলেও তারা মন্তব্য করেন।

স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন, আশাশুনি-বড়দল সড়কের ভেঙে পড়া কার্লভাট দ্রুত মেরামত করে সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আরও খবর