সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় আল কুরআন এ্যাকাডেমির পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

  মো. রাজু সিদ্দিকী ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ , ৩:০২:০৭ অনলাইন সংস্করণ

হাজার বছরের সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী আমরা। খাদ্যরসিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপূরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীসমাজের শিল্প নৈপুণ্যের স্মারক রূপেও পিঠা বিবেচিত হয়। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠা। যখনই পিঠা-পায়েস, পুলি কিংবা নাড়ুর কথা উঠে তখনি যেন শীত ঋতুটি আমাদের চোখে ও মনে ভেসে ওঠে। প্রতি শীতেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা পুলির উৎসব।

বাংলার নারীসমাজ অতীতে শিক্ষাদীক্ষায় অনগ্রসর ছিল সত্য, কিন্তু স্বীকার করতে হবে এদেশের নারী সমাজ লোকজ শিল্পকর্মে অত্যন্ত নিপুণ এবং সুদক্ষ। এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বা আলাদা রকম পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে সাধারণত নতুন ধান ওঠার পর থেকেই পিঠা তৈরির আয়োজন করা হয়।

শীতের সময় বাহারি পিঠার উপস্থাপন ও আধিক্য দেখা যায়। বাঙালির লোক ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। এটি লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই বহি:প্রকাশ। যান্ত্রিক সভ্যতার এই ইট-কাঠের নগরীতে হারিয়ে যেতে বসেছে পিঠার ঐতিহ্য। সময়ের স্রোত গড়িয়ে লোকজ এই শিল্প আবহমান বাংলার অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠলেও এ যুগে সামাজিকতার ক্ষেত্রে পিঠার প্রচলন অনেকটাই কমে এসেছে।

তাই মুখরোচক খাবার হিসেবে পিঠার স্বাদ গ্রহণ ও জনসমক্ষে একে আরো পরিচিত করে তুলতে শহরে ও গ্রামে বিভিন্ন স্থানে শীতকে ঘিরে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব। লোকজ এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে বাঙালির পিঠা পার্বণের আনন্দধারায় ৩১ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আল কোরআন একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জাতীয় পিঠা উৎসব ১৪৩১’।

উৎসবের নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উৎসবস্থলের অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইসলামী সংস্কৃতি গজল ও নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। এতে দেশ বরেণ্য শিল্পীদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন সময়ের সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা।

বিপুল লোক সমাগমের মধ্য দিয়ে (১ ফেব্রুয়ারী) শনিবার শেষ হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী জমজমাট এই পিঠার আসর। প্রতিদিনই প্রাণের টানে ছুটে আসা সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠেছে উৎসবস্থল। শীতের পিঠা-পুলিসহ নানা অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় পিঠার পসরা সাজিয়ে উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের মনোযোগ কেড়েছে পিঠা উৎসবে অংশ নেয় স্টলগুলো। প্রতিদিনই সেই পসরায় মুগ্ধ হয়ে স্টলে স্টলে পিঠা খেতে ভিড় জমিয়েছেন সকল বয়সের মানুষ।

আগামীকাল পিঠা উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। ইসলামী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মেহেদী হাসান(উপ-পরিচালক ইসলামিক ফাউন্ডেশন,সাতক্ষীরা)। উৎসব আহ্বায়ক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন আল কোরআন একাডেমির সহ প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাশেম।

আরো উপস্থিত থাকবেন ইসলামী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আহমেদ আলী সরদার।
স্বাগত বক্তব্য রাখবেন আল কোরআন একাডেমির সহ প্রতিষ্ঠাতা কামাল উদ্দিন,আরো থাকছেন আল কোরআন একাডেমীর সহ প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আল হুজাইফা ও নাজমুল হোসেন। প্রধান আলোচক হিসাবে থাকবেন আল কুরআন একাডেমীর প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী।
আল কোরআন একাডেমীর আয়োজনে পিঠা উৎসবে আপনারা সকলে আমন্ত্রিত।

আরও খবর