কলারোয়া

সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে শরিকদের জমি দখল, ভাঙচুর ও ঘর নির্মাণের  অভিযোগ

  নিজস্ব প্রতিনিধি : ২১ জুন ২০২৫ , ৪:২৯:৩৪ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার কলারোয়া  উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের উত্তর ক্ষেত্রপাড়া এলাকায় পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল করে  ঘর নির্মাণের  অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক মালির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ হুসাইন আহমেদ  কলারোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ জুন ২০২৫ তারিখ সকাল ৮টার দিকে মোঃ হুসাইন আহমেদ ও তার বাবা এবং ছোট ভাইকে নিয়ে বাড়ি থেকে কলারোয়া বাজারে যাচ্ছিলাম।
পথিমধ্যে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সিদ্দীক মালি ও তার সহযোগী  মৃত ফকির আহমেদের ছেলে মোশারফ,ওজিয়ার এর ছেলে  মুকুল, তমেজ মোড়লের ছেলে ওজিয়ার,ফটিক গাজীর ছেলে মালেক, মৃত সামাদ ধামাক এর ছেলে বাবলু ধামাক,সাজদ্দিন মোড়লের ছেলে রবিউল ইসলাম, সিদ্দিকীর ছেলে আবু সাঈদ, নুরুল হুদার ছেলে শফিকুল সহ আরো অনেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
সিদ্দিক মালী ও তার লোকজন আমার বাম হাতের মারাত্মক ফোলা জখম করে আমার নিজ মোটর সাইকেল ছিনিয়ে নেয়, আমার মোবাইল ফোন জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।
আমার ছোট ভাই ও আমার পিতাকে কিল-ঘুষি সহ বেধড়ক পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে আমাদেরকে মারতে মারতে বাড়ীর ভিতরে ঢুকিয়ে গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।
সিদ্দিক  আমাকে বলে যে, “বিএনপি ও জামাত নেতাদের দিয়ে তোকে মেরে সরশকাটি বাজারে ঝুলিয়ে দেবো ২০১৩ সালে অনেককে মেরেছি, কেউ কিছু করতে পারিনি আর তোরা কিছুই করতে পারবি না, দেখি তোদের কোন বাপ আছে কি করতে পারে বলিস”।
আমার ছোট ভাই ও পিতাকে বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে একলা পেলে খুন করে লাশ গুম করে দেবে। আমরা কোন উপায় না পেয়ে ৯৯৯ নং ফোন দিয়ে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে পরবর্তীতে সরসকাটি ক্যাম্প ইনচার্জ অফিসার আমাদের বাড়ীতে এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে এবং মোটর সাইকেল ও মোবাইল ফোন আসামীদের কাছ থেকে উদ্ধার করে দেয়। পরবর্তীতে সেনা ক্যাম্পে ফোনে যোগাযোগ করলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেনা বাহিনী চলে আসার পরে উক্ত আসামীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং খুন জখমের হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
বর্তমানে আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিতেছি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, মারতে মারতে নিয়ে এসে আমাদের গেটের মধ্যে নিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়।  বলে তোরা জমিও পাবি না, আবার মারও খাবি,
আমি এর একটা  স্থায়ী সমাধান চাই,কাগজ পাতি দেখে যে যতটুকু পাবে ততটুকুই পাক। এই জমি ৫০ বছর আগে ভাগ করা। অংশ হিসেবে চারটি ভাগ হবে, কিন্তু সে একাই দখল করতে চায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিদ্দিক মালী বলেন, ওই দাগে জমি আমিও পাই কিন্তু আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে না, বলে আমি দখল করেছি, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ছিনতাই মারধরের ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা।
কলারোয়া থানার এসআই আনিস রহমান বলেন,আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, ওই জমি নিয়ে কোর্টে মামলা চলমান, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ছিল, এক পক্ষ দখল করতে যাচ্ছিল সেনাবাহিনী সেটা বন্ধ করে, জমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে কোর্টের কাজ, আমরা দেখেছি আইনশৃঙ্খলা যেন ঠিকঠাক থাকে সেই পরামর্শ দিয়েছি।

আরও খবর