আসাদুজ্জামান ২২ জুলাই ২০২৫ , ১:২৭:৫৪ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হাবিবুর মোড়ল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আটারই গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত হাবিবুর ওই গ্রামের আব্দুল্লাহ মোড়লের ছেলে এবং পেশায় একজন ভ্যানচালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত হাবিবুর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক জীবনে ছিলেন চরম অস্থির ও সহিংস। মোটরসাইকেল কেনা নিয়ে স্ত্রী শান্তা খাতুন ও মা পারুল বেগমের সঙ্গে তীব্র কথাকাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নিহতের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী একজন মাদকাসক্ত। প্রায়ই মাদক সেবন করে আমাকে ও আমার শাশুড়িকে মারধর করত। সে বারবার মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা চেয়ে চাপ দিত। সোমবার রাতেও সে আমাদের ওপর চড়াও হয়। আমাকে মারধর করার একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে জ্ঞান ফিরে দেখি, সে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে।”
অন্যদিকে নিহতের মা পারুল বেগম জানান, “ঘটনার সময় ছেলে আমাকে কোপাতে আসে। আমি আত্মরক্ষায় ধস্তাধস্তি করলে তার হাতের হাসুয়াই তার কপাল ও গলায় আঘাত করে।”
স্থানীয়দের দাবি, ধস্তাধস্তির সময় নিজের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই হাবিবুর গুরুতর জখম হন। তাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে তালা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মা পারুল বেগমকে আটক করে।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইনউদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্ত্রী শান্তা খাতুন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আটক পারুল বেগমকে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

















