সারাদেশ

সাগরদাঁড়িতে উদ্ধার মহাকবি মধুসূদনের আমলের ঐতিহাসিক বড় দা, সংরক্ষণে জাদুঘর

  শেখ নুরুজ্জামান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি ২০ জুলাই ২০২৬ , ২:৫০:৪০ অনলাইন সংস্করণ

যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সমসাময়িক সময়ের একটি বিরল ও ঐতিহাসিক বড় দা (খাড়া অস্ত্র) উদ্ধার করা হয়েছে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শনটি বর্তমানে সাগরদাঁড়ি এম. এম. দত্ত বাড়ি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। গবেষক ও দর্শনার্থীদের জন্যও এটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া বড় দাটির দুই পাশে দুটি চোখের আকৃতি খোদাই করা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চোখের মণি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ বছর আগে জমিদার পরিবারের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানে, বিশেষ করে মহিষ ও ছাগল বলির কাজে এটি ব্যবহার করা হতো।

জানা গেছে, দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক আহম্মেদ রাজুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাশপাড়া (ঋষিপাড়া) এলাকার প্রয়াত বাসুদেব দাশের বাড়ি থেকে ঐতিহাসিক এই বড় দাটি উদ্ধার করা হয়।

সাংবাদিক রাজ্জাক আহম্মেদ রাজু জানান, গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে বাসুদেব দাশের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তাঁর বাড়িতে গেলে স্থানীয়দের কাছ থেকে দত্ত বাড়ির একটি পুরোনো বড় দার বিষয়ে জানতে পারেন। পরে তিনি এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ও বাসুদেব দাশের কাকাতো ভাই অধীর দাশের সঙ্গে কথা বলে দাটির ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

অধীর দাশ জানান, তাঁর জ্যাঠা ঠাকুর দাশ ও বাবা হরিপদ দাশ ছোটবেলা থেকেই সাগরদাঁড়ির দত্ত পরিবারের বাড়িতে কাজ করতেন। দেশভাগের সময় দত্ত পরিবারের সদস্যরা ভারতে চলে যাওয়ার আগে মহিষ বলির কাজে ব্যবহৃত এই বড় দাটি তাঁদের পরিবারের জিম্মায় রেখে যান। এরপর কয়েক প্রজন্ম ধরে দাশ পরিবার ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করে আসছিল।

ঐতিহাসিক নিদর্শনটি যথাযথভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে সাংবাদিক রাজ্জাক আহম্মেদ রাজু এটি সাগরদাঁড়ি মধুপল্লী জাদুঘরে হস্তান্তরের প্রস্তাব দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এতে সম্মতি জানালে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

পরে সাগরদাঁড়ি মধুপল্লীর কাস্টোডিয়ান মো. হাসানুজ্জামানের নির্দেশনায় কম্পিউটার অপারেটর মো. হারুন অর রশিদ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে একটি দল বাসুদেব দাশের বাড়ি থেকে বড় দাটি উদ্ধার করে জাদুঘরের হেফাজতে নিয়ে আসে।

সাগরদাঁড়ি মধুপল্লীর কাস্টোডিয়ান মো. হাসানুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক আহম্মেদ রাজুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রাচীন এই নিদর্শনটি উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সমসাময়িক সময়ের একটি ঐতিহাসিক সামগ্রী। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এই নিদর্শনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে এটি গবেষণা, শিক্ষা ও দর্শনার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত এই বিরল ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধারের খবর এলাকায় ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই ইতিহাসপ্রেমী, গবেষক ও দর্শনার্থীরা সাগরদাঁড়ি মধুপল্লী জাদুঘরে এসে বড় দাটি দেখছেন এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

আরও খবর