সাতক্ষীরা

জাহাঙ্গীরনগর নির্বাচনে জয়ী হয়ে আলো ছড়াল সাতক্ষীরার ছয় শিক্ষার্থী

  নিজস্ব প্রতিনিধি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৩:৩৬:৪৮ অনলাইন সংস্করণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার ছয় শিক্ষার্থী বিভিন্ন পদে বিজয়ী হয়ে আলোচনায় এসেছেন। জেলা সদর, শ্যামনগর ও তালা উপজেলার এ ছয় তরুণ-তরুণী শুধু নিজেদের পরিবার নয়, পুরো জেলার মানুষের জন্য গর্বের কারণ হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সাতক্ষীরাজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।

মাহাদি হাসান (শ্যামনগর) জাকসুর সহ ক্রীড়া সম্পাদক। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও মীর মোশাররফ হোসেন হলের আবাসিক। তিনি বলেন, “খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কাজ করতে চাই।”
শরিফুল ইসলাম (শ্যামনগর, কৈখালী ইউনিয়ন) শহীদ রফিক-জব্বার হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক। লোকপ্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। গ্রামের মানুষ মনে করছেন, তার নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

রিপন মন্ডল (তালা) আ ফ ম কামালউদ্দীন হল সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)। দর্শন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের ভাষায়, ছোটবেলা থেকেই তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পছন্দ করেন।

লামিয়া জান্নাত (সাতক্ষীরা সদর, নেবাখালি) জাহানারা ইমাম হল সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)। পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, “নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষাই আমার লক্ষ্য।”

এহসান আহমাদ জিহাদ (সাতক্ষীরা সদর, কুশখালি) প্রন্ততত্ত্ব বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। শহীদ রফিক-জব্বার হল সংসদের কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

নুশরিকা অদ্রি (সাতক্ষীরা শহর) ১৫ নং ছাত্রী হল সংসদের ডাইনিং ও ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদক। নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তার ভাষায়, “প্রতিটি ছাত্রী হলে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই।”

লামিয়া জান্নাতের মা জেসমিন আরা বলেন, “মেয়ের জন্য গর্ব হচ্ছে। আমরা চাই, সে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মেয়েদের স্বপ্নের কথা জাকসুর মঞ্চে তুলুক।”

এই ছয় শিক্ষার্থীর জয় কেবল তাদের পরিবারের নয়, বরং সাতক্ষীরার সম্মিলিত অর্জন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আশ্বাস দিয়েছেন, তারা জাকসু ও হল সংসদকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলবেন।
আশিকুজ্জামান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, “এসব বিজয় শুধু পরিবার বা গ্রাম নয়, পুরো জেলার মানুষকে গর্বিত করেছে।”

আরও খবর