নিজস্ব প্রতিনিধি ১ নভেম্বর ২০২৫ , ৭:২৫:৪৫ অনলাইন সংস্করণ
দৈনিক হৃদয় বার্তা পত্রিকার তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যার লিড নিউজ “প্রাচুর্যের জেলা সাতক্ষীরা, তবুও খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে সাতক্ষীরা” শিরোনামে জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত এই চার রঙের আট পৃষ্ঠার বিশেষ সংখ্যাটি পাঠক ও সচেতন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। সাতক্ষীরার উন্নয়ন বঞ্চনা, অবকাঠামোগত সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে হৃদয় বার্তার এই বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয় দেশের অন্যতম রাজস্বদাতা জেলা সাতক্ষীরা কীভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক, শিল্প ও পর্যটনসহ প্রায় সব খাতে খুলনা বিভাগের অন্য জেলাগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। স্থানীয় উন্নয়ন বৈষম্য, প্রশাসনিক অনাগ্রহ এবং টেকসই পরিকল্পনার অভাব কীভাবে জেলার অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিচ্ছে, সেই বাস্তব চিত্রও উঠে আসে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর দিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। জেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও তরুণ সমাজ, সবাই নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত প্রকাশ করতে থাকেন। অনেকে নিজের ওয়ালে হৃদয় বার্তার নিউজের স্ক্রিনশট ও লিংক শেয়ার করে লেখেন, “এটাই সাতক্ষীরার বাস্তব চিত্র”, “এই প্রতিবেদন আমাদের মনের কথা বলেছে”, “হৃদয় বার্তা সত্যিকারের জনমানুষের কণ্ঠস্বর।”
ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা জেলা সমিতি, সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও তরুণদের প্ল্যাটফর্ম নিউজটির প্রশংসা করে জানিয়েছে, হৃদয় বার্তা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়ন বঞ্চনার বিষয়গুলো তুলে ধরে যে সাংবাদিকতা করছে, তা জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন দাবিকে আরও জোরদার করেছে।
পাঠকপ্রিয় এই সংখ্যায় পত্রিকাটি উন্নয়ন বঞ্চনার পাশাপাশি তুলে ধরে সাতক্ষীরার প্রাকৃতিক সম্পদ, চিংড়ি শিল্প, সুন্দরবনভিত্তিক ইকোটুরিজম এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনার গল্পও। পাঠকদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “এই ধরনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনই পারে জেলার চিত্র বদলাতে।”
এই নিউজের প্রতিবেদক আহসানুর রহমান রাজীব বলেন, “এই প্রতিবেদনটি আমি করেছি একজন সাংবাদিক হিসেবে নয়, একজন সাতক্ষীরার সন্তান হিসেবে। খুলনা বিভাগের মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, ঘুরে দেখেছি। অথচ প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই জেলার মানুষ আজও মৌলিক সেবার বঞ্চনায় ভুগছে। উন্নয়নের হিসাব কাগজে থাকলেও বাস্তবে তার ছোঁয়া অনেক জায়গায় পৌঁছায়নি। আমি চেয়েছি সেই বাস্তবতা তুলে ধরতে যাতে নীতিনির্ধারকরা দেখেন, বোঝেন, আর পদক্ষেপ নেন। সাতক্ষীরার উন্নয়ন এখন আর অনুরোধ নয়, এটি প্রাপ্যতার প্রশ্ন।”
দৈনিক হৃদয় বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক জি. এম. মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা সবসময় সাতক্ষীরার কথা বলি এর সম্ভাবনা, সমস্যা, আর মানুষের ন্যায্য অধিকার নিয়ে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ সংখ্যার এই প্রতিবেদন আমাদের পত্রিকার সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। জনমানুষের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে হৃদয় বার্তার বিশেষ সংখ্যার সার্কুলেশন ছিলো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। শহর থেকে গ্রাম সাতক্ষীরার প্রতিটি প্রান্তে পাঠকদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় সাংবাদিক মহল মনে করছে, এই প্রতিবেদনটি শুধু পাঠকের মন জয় করেনি, বরং সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্যের বিষয়টিকে জাতীয় পরিসরে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
একজন শিক্ষক মন্তব্য করেন, “হৃদয় বার্তা এবার যে কাজটি করেছে, সেটি একটি জেলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি কেবল একটি নিউজ নয়, এটি সাতক্ষীরার উন্নয়ন আন্দোলনের একটি দলিল।”
তিন বছর পূর্তিতে এমন সাহসী ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার জন্য হৃদয় বার্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অনেক পাঠক ও সচেতন নাগরিক।

















