মো. রাজু সিদ্দিকী ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৭:১৭:৩২ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। সপ্তাহের ছুটির দিন শুক্রবারেও এ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিন-রাতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও।
বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন, আর গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে শহর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ।
শহরের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, “এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে আমরা কোথায় যাবো? গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “রান্না করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ফ্যান না থাকায় রান্নাঘরে দাঁড়ানোই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।”
শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী জানান, ছুটির দিনে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও যারা জরুরি প্রয়োজনে দোকান খুলে রেখেছেন, তারা লোডশেডিংয়ের কারণে কোনো কাজই ঠিকমতো করতে পারছেন না। ফ্রিজে রাখা মাছ, মাংসসহ পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অটোচালক কামাল হোসেন বলেন, “চার্জ না থাকায় গাড়ি চালাতে পারছি না। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”
বয়স্ক বাসিন্দা হাজেরা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা যায় না। রাতে ঘুমাতে পারি না, শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে।”
একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা প্রশ্ন তুলে বলেন, “সবকিছু বন্ধ থাকার পরও যদি এভাবে লোডশেডিং হয়, তাহলে বিদ্যুৎ যাচ্ছে কোথায়? সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।”
কলেজছাত্রী তানিয়া রহমান বলেন, “রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। পরীক্ষার সময় এভাবে পড়াশোনা করা অসম্ভব হয়ে উঠছে।”
ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, “দোকানে ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম ও ঠান্ডা পানীয় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

















