সাতক্ষীরা

মানবতার আলো’র বিনামূল্যে শিক্ষাদান কার্যক্রম শুরু

  নিজস্ব প্রতিনিধি ৮ নভেম্বর ২০২৫ , ১:৪৬:৩৮ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “মানবতার আলো” বিনামূল্যে শিক্ষাদান কার্যক্রমের সূচনা করেছে। শুক্রবার বিকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদা খাতুন চোখে আনন্দের ঝিলিক নিয়ে বলে, “আমি আগে নিয়মিত পড়তে পারতাম না। বই-খাতা কেনার টাকা ছিল না। কিন্তু ‘মানবতার আলো’ আমাকে নতুন খাতা-কলম দিয়েছে, এখানে আমরা বিনামূল্যে পড়তে পারি। আমি বড় হয়ে শিক্ষক হতে চাই, যাতে আমিও অন্য গরিব শিশুদের পাশে দাঁড়াতে পারি।”

বকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড। ‘মানবতার আলো’ যে উদ্যোগ নিয়েছে তা কেবল শিক্ষাদান নয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের কাজ। সমাজের অন্যরাও এরকম উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হবে বলে আশা করি।”

সংগঠনের উপদেষ্টা জয় আহমেদ বলেন, “শিক্ষার অধিকার সবার। অর্থের অভাবে যেন কোনো শিশুর স্বপ্ন থেমে না যায়, ঢাকার এই পথচলাই সেই লক্ষ্যে। ‘মানবতার আলো’ সবসময় মানুষের পাশে থাকবে।”

সংগঠনের সভাপতি আল মামুন সুমন দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেন, “মানুষের সেবা করা আমাদের মূল লক্ষ্য। বিনামূল্যে শিক্ষাদান সেই সেবার একটি অংশ। সমাজের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে আমরা এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করবো।”

সাধারণ সম্পাদক আলিম রাজ বলেন, “কার্যক্রমটি পরিচালনায় একদল নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। বইয়ের জ্ঞান ছাড়াও শিশুদের নৈতিকতা ও দেশপ্রেম শেখানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজ মোর্সেদ বলেন, “আজকের উদ্বোধন শুধু শুরু। ভবিষ্যতে শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সার্বিক বিকাশেও কাজ করার পরিকল্পনা আছে।”

প্রচার সম্পাদক সামিমুজ্জামান আকাশ সমাজের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন,”এ কাজে সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রচার নয়, প্রসারই আমাদের লক্ষ্য।”

কোষাধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম বলেন, “সকল আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি অর্থ শিশুর শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ব্যয় করা হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও মানবতার আলোর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

আরও খবর