সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় তরুণদের জন্য হিউম্যান লাইব্রেরি আলোচনা সভা

  ডেস্ক রিপোর্ট ১৬ নভেম্বর ২০২৫ , ১:২৭:১৪ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরায় তরুণদের জন্য হিউম্যান লাইব্রেরি বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর ২০২৫) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে সাতক্ষীরা ইয়ুথ হাবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিডো, সাতক্ষীরার বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এফরটি প্রকল্পের আওতায় এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তরুণদের ব্যক্তিগত বিকাশ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহানুভূতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এই সভায় অংশগ্রহণকারীরা মানব গ্রন্থাগার ধারণা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সিডোর প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস। হিউম্যান লাইব্রেরির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন একশনএইড বাংলাদেশের ইনস্পিরেটর সুইট খান। মানব লাইব্রেরি (বই) হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটসের লিডার ট্রেইনার এবং সাতক্ষীরা পরিবেশ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি, সাতক্ষীরা সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক মো. আবুল বাশার পল্টু। তিনি জীবনের সাফল্যের গল্প শেয়ার করেন এবং তরুণদের জীবনদর্শন, ভবিষ্যৎ পথচলা ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে অনুপ্রাণিত করেন। তরুণরা নানা প্রশ্ন করেন এবং তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি লাভ করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ব্যক্তিগত বিকাশের পাশাপাশি সহানুভূতি ও সামাজিক সংহতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের তরুণরা নানা সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ভুল ধারণা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিক্ষাগত বৈষম্যসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তাদের অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে পারে। এ অবস্থায় হিউম্যান লাইব্রেরি প্ল্যাটফর্ম তরুণদের জন্য এক অনন্য ও সৃজনশীল মঞ্চ, যেখানে সরাসরি ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে বোঝাপড়া, সংলাপ ও বৈচিত্র্যের প্রতি গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।

হিউম্যান লাইব্রেরি প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ইন্টারেক্টিভ পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে স্টেরিওটাইপ, কুসংস্কার ও ভুল বোঝাবুঝিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এতে সামাজিক সংহতি, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং ব্যক্তিগত বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা মানুষ ও সমাজ সম্পর্কে গভীরতর সচেতনতা ও সহানুভূতি অর্জন করেন, যোগাযোগ ও আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা উন্নত হয় এবং তারা নিজেদের সম্প্রদায়ে বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত হন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচকভাবে বদলে দিয়ে একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সুরেলা সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন ইয়ুথ গ্রুপের তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. তহিদুজ্জামান তহিদ, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার, ফাইনান্স অফিসার চন্দন কুমার বৈদ্যসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

আরও খবর