এম কামরুজ্জামান, শ্যামনগর ব্যুরো ২৫ এপ্রিল ২০২৬ , ৪:২৩:১৪ অনলাইন সংস্করণ
দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শ্যামনগর উপজেলা এলাকায় বেড়েই চলেছে লোডশেডিং। দিনে গড়ে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। হাসপাতালগুলোতেও জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে, ইরি-বোরো ও রবি শস্যের ভরা মৌসুমে সেচ সংকট বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্পগুলো সময়মতো চালানো যাচ্ছে না। এতে ফসলের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শিক্ষা খাতেও পড়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব। দিনে তীব্র গরমে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে, আর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানার উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জেনারেটরের মাধ্যমে কাজ চালানোর চেষ্টা করলেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের তীব্র সংকট থাকায় সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত গ্যাস ও কয়লার ঘাটতি এবং তীব্র গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়াই এই সংকটের মূল কারণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা সদরে কিছুটা বিদ্যুৎ থাকলেও বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে তাপদাহে সাধারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, এই উপজেলায় প্রায় ৮৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। যেখানে ২০ থেকে ২২ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১১ কেভি। ফলে লোডশেডিং ছাড়া কোনো বিকল্প থাকছে না।
দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শ্যামনগরে কৃষি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

















