সারাদেশ

টানা বর্ষণে কেশবপুরে হরিহর নদীর পাড় ধস, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে প্রশাসন

  কেশবপুর প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ , ৩:৩০:৫১ অনলাইন সংস্করণ

যশোরের কেশবপুরে টানা ভারী বর্ষণ ও হরিহর নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ নদীভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামসংলগ্ন হরিহর নদীর পাড় ধসে চারটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আকস্মিক এ ভাঙনে অন্তত দুটি পরিবার তাদের শেষ সম্বল ও মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে মুহূর্তের মধ্যে নদীর পাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়লে একের পর এক বসতঘর নদীতে তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ির সঙ্গে ভেসে যায় পরিবারের মূল্যবান আসবাবপত্র, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং বহু বছরের কষ্টার্জিত সম্পদ। ভাঙনের আতঙ্কে আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবার নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবারসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এ সময় হরিহর নদ খননকাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হরিহর নদ খননের পর থেকেই নদীর দুই পাশের পাড় তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পাড় ধসে বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনা ঘটে। তারা দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাহ হোসেন বলেন, “মুহূর্তের মধ্যে আমার বসতঘর নদীতে ভেঙে পড়েছে। জীবনের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, বুঝতে পারছি না।”

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ফারুক হোসেন বলেন, “বাড়িটিই ছিল আমাদের একমাত্র আশ্রয়। নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা পেয়েছি, তবে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।”

এদিকে টানা বর্ষণের কারণে কেশবপুর পৌর শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও পানি জমতে শুরু করেছে। এতে নতুন করে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে হরিহর নদীর তীরবর্তী আরও কয়েকটি বাড়িঘর নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন এবং নদীর পাড় রক্ষায় কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরও খবর