এম কামরুজ্জামান, ব্যুরো শ্যামনগর ১১ আগস্ট ২০২৬ , ৩:৫৯:৩৪ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন ১২ জন শিক্ষক। রয়েছে কর্মচারীও। অথচ চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে অংশ নেওয়া চারজন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির পাঠদান ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যশোর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতক্ষীরার চারটি বিদ্যালয়ের শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এখনো প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়নি। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায় বিদ্যালয়টি। এরপর এবারই প্রথম প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ১২ জন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ২২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ বিল্লাহ বলেন, “এ বছর আমাদের বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউই পাস করতে পারেনি। বিষয়টি আমাদের জন্য অবশ্যই হতাশাজনক এবং আত্মসমালোচনারও বিষয়। তবে ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, পারিবারিক আর্থিক সংকট ও পড়াশোনায় অনাগ্রহের মতো বিষয়ও রয়েছে।”
তিনি বলেন, “ষষ্ঠ শ্রেণিতে এই ব্যাচে ৫১ জন শিক্ষার্থী ছিল। এসএসসি পরীক্ষায় এসে শিক্ষার্থী কমে দাঁড়ায় মাত্র চারজনে। তাদের মধ্যে একজন বিবাহিত এবং দুজন পরিবারের আর্থিক সংকটে বিভিন্ন কাজে যুক্ত। তারপরও আমরা তাদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি এবং ফরম পূরণ করিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি।”
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ফলাফল খারাপ হয়েছে। এ দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা খুঁজে বের করে আগামী বছর ফলাফল উন্নত করতে আমরা কাজ করতে চাই।”
শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারাত বলেন, এ বছর শ্যামনগর উপজেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫১ জন।
সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়টি থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। এটি বিদ্যালয়টির প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।”
১২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও চারজন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস না করায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

















