নিজস্ব প্রতিনিধি ১৯ আগস্ট ২০২৬ , ৬:২৪:৩৭ অনলাইন সংস্করণ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার মো. আলিমুজ্জামান সাজুর পরিচয় পাওয়া গেছে।
নিহত আলিমুজ্জামান সাজু সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকার সেটেলমেন্ট অফিসের পাশের বাসিন্দা। তাঁর পৈতৃক বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. ইউনুস আলী সরদারের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত সাজুর খালাতো ভাই ও সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী একে ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী তাহমিদ শাহেদ চয়ন। তিনি জানান, কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের তালিকায় তাঁর খালাতো ভাই মো. আলিমুজ্জামান সাজুর নাম রয়েছে।
জানা গেছে, বুধবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলের চারতলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথি নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বাইরে থেকে সরাসরি আগুনের শিখা তেমন দেখা না গেলেও হোটেলটির ভেতর ও আশপাশ দ্রুত প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। হোটেলে ঢোকা ও বের হওয়ার পথ সংকীর্ণ হওয়ায় আতঙ্কিত অতিথিদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।
পরে উদ্ধারকারীরা হোটেল থেকে অন্তত ৬০ জনকে আশঙ্কাজনক ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে আলিমুজ্জামান সাজুর মৃত্যুর খবর সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর তাঁর পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পলাশপোল ও কালীগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলের কোনো একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। ফায়ার সার্ভিস অফিসের মাত্র এক ভবন পরেই হোটেলটির অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

















