সারাদেশ

মরণফাঁদে কয়রার সেতু, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষের পারাপার!

  ফরহাদ হোসেন, কয়রা প্রতিনিধি ১৪ জুন ২০২৫ , ৪:৫৪:২৪ অনলাইন সংস্করণ

filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0; module:1facing:0; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Hdr; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 43.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

খুলনার কয়রা সদর ইউনিয়নের ২নং কয়রা গ্রামের খালের উপর নির্মিত ওড়াতলা নামক স্থানের সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্য রয়েছে দুপাড়ের মানুষ। প্রতিদিন চরম ঝুঁকির মধ্য পারাপার হচ্ছে কোমলমতি শিশু, শিক্ষার্থী, সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। জরুরী ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সরেজমিন দেখা গেছে, কয়রা সদর ইউনিয়নের কয়রা খালের ওপর ওড়াতলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন স্থানে ১৯৯৬ নির্মিত সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুর দুই পাশে নেই কোনো রেলিং। বেশির ভাগ পিলারের পলেস্তরা খসে পড়েছে এবং সেতুটির একাংশ খালে ভেঙ্গে পড়ায় চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে। বেরিয়ে গেছে রড। ভেঙে যাওয়া সেতুটির বড় একটি অংশে কাঠের পাটাতন ও বাঁশ বিছিয়ে দিয়ে পার হচ্ছে ৪ গ্রামের হাজারও মানুষ । যে কোনো সময় পুরা সেতুটি ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা বলছেন, ১৯৯৬ সালে নির্মিত এই সেতুটি পরবর্তীতে আর কোন সংষ্কার করা হয়নি। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হলে এলজিইডি থেকে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়। তার কিছুদিন পর সেতুটির একাংশ খালে ভেঙে পড়ে। ভেঙে যাওয়া সেতুটি বছর পার হয়ে গেলেও এখনো কোন সংষ্কারের উদ্যোগ নেয়নি কতৃপক্ষ।
২নং কয়রা গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, সেতু দিয়ে বৃদ্ধ ও শিশুদের মারাত্বক ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। সেতু দিয়ে পারাপারের সময় অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। স্কুলে ছেলে-মেয়েদের পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাদের। এলাকাবাসীর দির্ঘদিনের দাবী পূর্বের স্থলে একটি ব্রিজ নির্মানের।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২নং কয়রা ও ওড়াতলা হাফিজিয়া মাদরাসার সামনে ১৯৯৬ সালে খালের ওপর সেতুটি নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণতে রয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি নির্মাণের কোনো লক্ষণ নেই। জনমনে আতঙ্ক আর ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজারও মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে। সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
কয়রা সদর ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান এসএম লুৎফর রহমান বলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪ ও ২ নং ওয়ার্ডের সংযোগস্থলে নির্মিত সেতুটির ওপর দিয়ে পার্শবর্তী ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের জনসাধারনের কয়রা সদরে আসতে হয়। ওই ঝুকিপূর্ণসেতু দিয়ে চলাচলের সময় ভয়ে থাকতে হয়। কখন যেন এটি ভেঙে পড়ে। এমন আশঙ্কা নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ।
এলজিইডি কয়রার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন,কয়রা খালের উপর নির্মিত ঝুকিপূর্ণ সেতুটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। সেতুটি পুর্ন নির্মান করার জন্য উধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাস বলেন, সেতুটি অনেক আগেই ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। জনদূর্ভোগ লাঘবে জরুরী ভিত্তিতে সেতুটি পুর্ন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও খবর