ডেস্ক রিপোর্ট ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৬:৩৬:১৯ অনলাইন সংস্করণ
সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পৃথক বোর্ড ও মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিসহ ২১ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ সাতক্ষীরায় বছরে ৫ লক্ষাধিক মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়। পাশাপাশি প্রায় ২৮ হাজার মেট্রিক টন রপ্তানিযোগ্য চিংড়িসহ গড়ে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ, ২ লাখ মেট্রিক টন দুধ, বিপুল পরিমাণ শীতকালীন শাকসবজি, আম, কুল ও মধু উৎপাদিত হয়। ভোমরা স্থলবন্দর থেকেও বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে এসব সম্ভাবনার পরও সাতক্ষীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পিছিয়ে রয়েছে বলে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বক্তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙন, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার মতো সমস্যায় জর্জরিত এই অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুপেয় পানির সংকট, কৃষিজমি হ্রাস ও কর্মসংস্থানের অভাবে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কাজের সন্ধানে বিপুল সংখ্যক মানুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের চেয়ে কমে গেছে। অন্যদিকে, শহরমুখী মানুষের চাপ বাড়ায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, গত পাঁচ দশকের উন্নয়ন ধারায় সাতক্ষীরা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো একই নকশায় নির্মিত অবকাঠামো এই অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ২১ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-সুন্দরবন উপকূলীয় বোর্ড ও মন্ত্রণালয় গঠন, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রেললাইন স্থাপন, নতুন উপজেলা গঠন, ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া, বসন্তপুর নৌবন্দর চালু, ক্রীড়া কমপ্লেক্সকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণ, শ্রমঘন শিল্পাঞ্চল স্থাপন, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, উপজেলা ভিত্তিক স্টেডিয়াম নির্মাণ, বিআরটিসির বাস সংখ্যা বৃদ্ধি, সড়ক সংস্কার, মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, আইটি সিটি গড়ে তোলা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।











