সাতক্ষীরা

৭ বছর পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ল্যাপারোস্কপিক অপারেশন চালু

  নিজস্ব প্রতিনিধি ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ২:৫৯:৩১ অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘ সাত বছর পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আধুনিক ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে পিত্তথলির অপারেশন (ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি) পুনরায় চালু হয়েছে। পেট না কেটে মেশিনের মাধ্যমে এ অপারেশন শুরু হওয়ায় জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস সালামের উদ্যোগে এ সেবা পুনরায় চালু করা হয়। প্রথম দিনেই সফলভাবে একটি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।

সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. সুব্রত কুমার মন্ডলের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অপারেশনে সহযোগিতা করেন সার্জারি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তফা আরাফাত ইসলাম। এনেস্থিসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. রাজীব কাওসার এবং ট্রলি নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওটি ইনচার্জ আকলিমা।

চিকিৎসকরা জানান, ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে অপারেশন হলে রোগীরা কম ব্যথা, কম রক্তক্ষরণ এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ পান। পেট না কেটে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অপারেশন হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকিও কম থাকে এবং হাসপাতালে থাকার সময় তুলনামূলক কম লাগে।

সার্জারি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তফা আরাফাত ইসলাম বলেন, “এই আধুনিক পদ্ধতি চালু থাকলে রোগীরা স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা পাবেন এবং বাইরে গিয়ে ব্যয়বহুল অপারেশন করানোর প্রয়োজন কমবে।”

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ল্যাপারোস্কপি মেশিনটি সচল করে পুনরায় সেবা চালু করা হয়েছে। এতে এখন জেলার মানুষ স্থানীয়ভাবেই কম খরচে আধুনিক চিকিৎসা নিতে পারবেন।

সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, “হাসপাতালের স্টোরে পড়ে থাকা একটি ল্যাপারোস্কপি মেশিন শনাক্ত করে সেটিকে অপারেশন উপযোগী করা হয়েছে। চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে এই সেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে। এখন থেকে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ সহজেই এ সুবিধা পাবে।”

অপারেশন করা রোগীর স্বজন জানান, পেট কেটে অপারেশনের ভয়ে আগে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে ছোট ছিদ্র করে অপারেশন হওয়ায় রোগীর কষ্ট অনেক কম হয়েছে এবং চিকিৎসকরাও নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বহিঃবিভাগের ১১৭-১১৮ নম্বর কক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ে আউটডোর টিকিট সংগ্রহ করে রোগীরা এ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

বর্তমানে সদর হাসপাতালে জেনারেল সার্জারি, ইউরোলজি এবং ডায়াবেটিক ফুট কেয়ারের আওতায় পিত্তথলির পাথর অপারেশন, অ্যাপেন্ডিক্স, হার্নিয়া, পাইলস, ফিস্টুলা, বিভিন্ন টিউমার অপারেশন, প্রস্রাবজনিত জটিলতা এবং ডায়াবেটিক ফুটের চিকিৎসাসহ নানা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

চিকিৎসকরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত সার্জিক্যাল সেবা চালু করা সম্ভব হবে। জেলার সচেতন মহলের মতে, এ উদ্যোগ সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরও খবর