সাতক্ষীরা

জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত ৬নং ওয়ার্ড, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

  নিজস্ব প্রতিনিধি ১৫ জুলাই ২০২৫ , ৪:৩২:০৪ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের চিত্র যেন জলাবদ্ধতার এক স্থায়ী অভিশাপ। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ওয়ার্ডটির বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ডুবে গেছে। রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লা, বাসাবাড়ি—সবই এখন পানির নিচে। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। কাজকর্ম বন্ধ, শিশু-বৃদ্ধরা ঘরবন্দি, দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং বাড়ছে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি।

স্থানীয় বাসিন্দা, সমাজসেবক ও মাওলানা রুস্তম আলী তাওহিদী বলেন, “আমাদের ৬নং ওয়ার্ডে গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষা মৌসুম এলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এবার টানা বৃষ্টিতে অবস্থা চরম আকার ধারণ করেছে। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। এমনকি নামাজ পড়ার জায়গাও পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে কষ্টে আছে বাচ্চা ও বৃদ্ধরা।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দেয়, ড্রেনেজ ঠিক করবে, জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। এই দুর্ভোগ থেকে আমরা কবে মুক্তি পাবো, সেটা জানি না।”

ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৃহবধূ হাজেরা খাতুন জানান, “রান্না করা তো দূরের কথা, গোসল আর টয়লেট ব্যবস্থাও অচল হয়ে গেছে। দিনের পর দিন এই পানিতে বসবাস করতে হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কোথাও থেকে কোনো সাহায্য পাচ্ছি না।”

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বৃষ্টি হলে সেই পানি আর নামতে পারে না, ফলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।

৬নং ওয়ার্ডের কুখরালী, টাবরাডাঙ্গী, বাঁকাল,—প্রায় সব এলাকাই পানির নিচে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে পানি মাড়িয়ে কোনোভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ পুরোপুরি যেতে পারছে না।

এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে ডায়রিয়া, পানিবাহিত চর্মরোগ, সাপের উপদ্রবসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রতিবারই এমন আশ্বাস শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবে ফল মেলে না। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন।
অবশ্য এলাকাবাসী এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে জনপ্রতিনিধি, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন চিত্র লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য। জলাবদ্ধতা নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে প্রতিবছর এই দুর্ভোগ নিয়েই তাদের জীবন কাটাতে হবে।

আরও খবর