আশাশুনি

আশাশুনির ব্যস্ত সড়কে গর্তের ছড়াছড়ি, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

  আশাশুনি প্রতিনিধি ২৫ আগস্ট ২০২৬ , ৫:৫৪:৩৬ অনলাইন সংস্করণ

মাত্র ২০০ ফুট পথ। অথচ এই পথ পাড়ি দিতেই প্রতিদিন নাকাল হতে হচ্ছে আশাশুনি উপজেলা সদরের মানুষকে। সড়কের পিচ উঠে তৈরি হয়েছে ৩০-৪০টি ছোট-বড় গর্ত। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে যায়, বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকেরা। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের আমিন মার্কেটের মোড় থেকে ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় ২০০ ফুট সড়কের বেশির ভাগ অংশই বেহাল। কোথাও পিচ উঠে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, কোথাও আবার ছোট ছোট অসংখ্য গর্ত। গর্তের কারণে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি উপজেলা সদরের অন্যতম ব্যস্ত পথ। এর দুই পাশে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (ওয়াপদা) অফিস, সোনালী ব্যাংক, সেটেলমেন্ট অফিস, এনজিও কার্যালয়, তিনটি অটো রাইস মিল, দুটি মসজিদ, মোটরসাইকেল ও ভ্যানচালক সমিতির অফিস, স’মিল, হোটেল, লেদ মেশিনের প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ পথে মানুষের চলাচল লেগেই থাকে।

এ ছাড়া আশাশুনি সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, পোস্ট অফিস, ফায়ার সার্ভিস, মুক্তিযোদ্ধা ভবন, সদর ইউনিয়ন নায়েব অফিস ও টেলিফোন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করেন। সাতক্ষীরা-ঘোলা সড়কের মিনিবাসসহ ভ্যান, সাইকেল, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ইঞ্জিনভ্যান ও প্রাইভেটকারও এ পথ দিয়ে চলাচল করে।

স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আবু ছাদেক মোড়ল বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা অনেক দিন ধরে খারাপ। প্রতিদিন মানুষ কষ্ট করে চলাচল করছে। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’

চাউল ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান পিন্টু বলেন, ‘সড়কটি খুব বেশি বড় নয়। কিন্তু এই অল্প জায়গাতেই এত গর্ত যে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েন।’

ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গর্তে চাকা পড়ে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। বৃষ্টির সময় গর্ত দেখা যায় না। তখন দুর্ঘটনার ভয় থাকে।’

কলেজ শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার সময় এই রাস্তা ব্যবহার করি। গর্তের কারণে অনেক সময় গাড়ি দুলতে থাকে। বৃষ্টির দিনে পানি জমে গেলে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।’

পথচারী আব্দুর রহিম বলেন, ‘উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হওয়া সত্ত্বেও এমন অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। মাত্র ২০০ ফুট রাস্তা দ্রুত সংস্কার করা হলে মানুষের অনেক ভোগান্তি কমবে।’

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকার বলেন, ‘সড়কটির সংস্কারের জন্য ইস্টিমেট করা হয়েছে। খুব দ্রুতই সড়কটির সংস্কারকাজ করা হবে।’

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা জরুরি। গর্তগুলো সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান ভুক্তভোগীরা।

আরও খবর