কালিগঞ্জ প্রতিনিধি ২৫ আগস্ট ২০২৬ , ৫:৫১:০৬ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারের বৈকালীন হাটে রুপচাঁদা মাছের নামে নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বাজারে কয়েকজন মাছ বিক্রেতাকে প্রকাশ্যে এ মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ক্রেতারা।
এ ঘটনায় বাজারের ক্রেতা ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অধিক লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পিরানহা মাছের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে রুপচাঁদা বা অন্য মাছের নামে বিক্রি করছেন। মাছের প্রজাতি সম্পর্কে সাধারণ ক্রেতাদের ধারণা না থাকায় অনেকে না চিনেই এসব মাছ কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।
বাজারে মাছ কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, রুপচাঁদা মাছ মনে করেই অনেকে মাছ কিনছেন। পরে সেটি পিরানহা বলে জানতে পারলে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। বাজারে বিক্রি হওয়া মাছটি আসলে কোন প্রজাতির, কোথা থেকে এসেছে এবং এর বেচাকেনার বৈধতা রয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, পিরানহা আক্রমণাত্মক প্রজাতির মাছ হিসেবে পরিচিত। দেশে নিষিদ্ধ প্রজাতির মাছের চাষ, উৎপাদন ও বাজারজাতের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। এরপরও জনসমাগমপূর্ণ চৌমুহনী বাজারে এ ধরনের মাছ বিক্রির অভিযোগ ওঠায় বাজার তদারকি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মাছ বিক্রেতাদের কয়েকজনের কাছে এ মাছ বিক্রির বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই শুনে আসছি এটি অবৈধ এবং বিষাক্ত মাছ বিক্রি করা নিষিদ্ধ।’ তবে বাজারে বিক্রি হওয়া মাছটি প্রকৃতপক্ষে পিরানহা কি না, সেটি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে জানান তারা।
স্থানীয়দের দাবি, মাছের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে বিক্রি করা হলে একদিকে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে নিষিদ্ধ প্রজাতির মাছের বাজারজাতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ কারণে বাজারে নিয়মিত নজরদারি, মাছের প্রজাতি শনাক্তকরণ এবং ব্যবসায়ীদের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, নিষিদ্ধ মাছের বিক্রি বন্ধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, মাছ ব্যবসায়ীদেরও নিষিদ্ধ প্রজাতি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে দ্রুত চৌমুহনী বাজার পরিদর্শনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রি হওয়া মাছের প্রজাতি, উৎস ও বাজারজাতের বৈধতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, নিষিদ্ধ প্রজাতির মাছ চাষ, বাজারজাত বা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, রুপচাঁদার নামে পিরানহা কিংবা অন্য কোনো মাছ বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে কি না, তা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি।

















