Uncategorized

আশাশুনির বড়দল সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত, দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর

  আশাশুনি প্রতিনিধি ৪ আগস্ট ২০২৫ , ৩:২৫:২৩ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মানিকখালী ব্রিজ থেকে বড়দল পর্যন্ত প্রধান সড়কটি বর্তমানে এক ভয়াবহ মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ফকরাবাদ গার্লস স্কুলের সামনের অংশে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের এই সড়কে যাত্রী ও পথচারীদের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দক্ষিণ খুলনার ঐতিহ্যবাহী বড়দল হাটে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি। প্রতিদিন হাজারো মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, ইঞ্জিনভ্যান, নসিমন, করিমনসহ যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। রাস্তার সংযোগ রয়েছে পাইকগাছা, কয়রা, তালা, শ্যামনগর, দেবহাটা, কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা জেলা ও খুলনা বিভাগের সঙ্গে।

৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে জামালনগর ফুলতলা, ফকরাবাদ পাওয়ার হাউস ও বুড়িয়া হাসপাতালের সামনে পিচের ওপর ইট বসিয়ে দ্বিস্তরবিশিষ্ট অবাস্তব এক সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে—যা ইতিপূর্বে ‘আজব রাস্তা’ হিসেবে সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসচালক আকরাম হোসেন জানান, “এই রাস্তায় প্রায় ১০০টি স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বাস চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ধাক্কা খেয়ে যাত্রীদের আতঙ্কে পড়তে হয়, বাসের জানালার কাঁচ ভেঙে যাচ্ছে।”

সুব্রত মন্ডল, ভগিরথ মন্ডলসহ স্থানীয় অনেকেই জানান, “প্রতিদিন এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো দিন বাদ যায় না, যাত্রীদের মাথায় পানি ঢেলে গাড়ি ঠেলতে হয়।”

ফকরাবাদ গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সনাতন বৈরাগী জানান, “স্কুলের সামনে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। আমাদের ১৩২ জন ছাত্রী ক্লাসে আসতে ভয় পায়। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই রাস্তা সংস্কার জরুরি।”

অন্যদিকে ফকরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিতা মন্ডল বলেন, “আমাদের ২০০ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে প্রায় ১৭০ জন প্রতিদিন এই রাস্তায় চলাচল করে। প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিশুরা। দ্রুত সংস্কার না হলে স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, “বৃষ্টির কারণে রাস্তায় খানাখন্দ হয়েছে—বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানলাম, আজই লোক পাঠানো হবে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির দ্রুত ও টেকসই সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও খবর