শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না ২৩ আগস্ট ২০২৫ , ১২:৪১:২১ অনলাইন সংস্করণ
কৃষি নির্ভর জেলা সাতক্ষীরা—যেখানে উর্বর মাটি ও পরিশ্রমী কৃষকের হাত ধরেই জন্ম নেয় নানা সম্ভাবনা। কুল, আম, ওল, বাগদা চিংড়ি আর মিষ্টির জন্য খ্যাত এই জেলা এখন নতুন আরেকটি পরিচিতি পেয়েছে—মাল্টা চাষ।
চলতি বছর জেলায় প্রায় ১৩৫ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে একাই কলারোয়া উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমি মাল্টায় আচ্ছাদিত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মাল্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়।
জেলার মাটি ও আবহাওয়ায় সামান্য লবণাক্ততার কারণে সাতক্ষীরার মাল্টা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি মিষ্টি। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, কম খরচে মাল্টা চাষ করে তারা ভালো আয় করছেন। একই সঙ্গে মাল্টার বাগানে আন্তঃফসল হিসেবে পেয়ারা, ওল ও বিভিন্ন সবজি চাষ করে বাড়তি লাভও তুলছেন।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, “এই বছর আমি মাত্র পাঁচ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় আমি খুশি। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে মাল্টা লাগাবো। কম খরচে লাভ অনেক বেশি, তাই এখন মাল্টাই আমার নতুন আশা।”
সাতক্ষীরা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ফল হিসেবে মাল্টা শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। ফলে বাজারে এর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। বিদেশি ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সাতক্ষীরার মাল্টা আরও বেশি জনপ্রিয় ও লাভজনক হয়ে উঠবে।”*
মাল্টা চাষে শুধু কৃষকরাই লাভবান হচ্ছেন না, বরং স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষেরও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। ফলে দিন দিন কৃষকদের মধ্যে মাল্টা চাষের আগ্রহ বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৮ হেক্টর জমি বেশি মাল্টা চাষ হয়েছে, যা আগামীর সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করছে।
সাতক্ষীরার মাটি, আবহাওয়া আর কৃষকের পরিশ্রমে মাল্টা এখন এক নতুন সম্ভাবনার নাম। হয়তো খুব শিগগিরই সাতক্ষীরা পরিচিত হবে শুধু আম-চিংড়ির জন্য নয়, মাল্টার জন্যও।

















