শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১২:০৫:০৭ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খাল রক্ষায় দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের পাকা পুলের ব্রিজের উপরে পরিবেশ ও সুরক্ষা মঞ্চের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কবি ও পরিবেশবিদ পল্টু বাসারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রাণসায়ের ও পরিবেশ মঞ্চের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, বেলাল মুকুল, আমেনা বিলকিস ময়না ও শাম্মী আক্তার কুমকুম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, একসময় প্রাণসায়ের খাল ছিল সাতক্ষীরার প্রাণ। এই খাল দিয়েই যোগাযোগ, কৃষি, মৎস্য ও জনজীবন সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন দখল ও দূষণের কবলে পড়ে খালটি মৃতপ্রায়। দুই তীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। কসাইখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছড়াচ্ছে ভয়াবহ দূষণ। ফলে খালের পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
সভাপতি কবি পল্টু বাসার বলেন, “এক সময় দুর্গন্ধে রাস্তায় রুমাল দিয়ে যেতে হতো, এখন জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে জোয়ার-ভাটা ফিরেছে, গাছপালা রোপণ হয়েছে। কিন্তু নতুন কসাইখানা এই পরিবেশকে আবার হুমকির মুখে ফেলছে। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, “প্রাণসায়ের খাল শুধু একটি খাল নয়, এটি সাতক্ষীরার অস্তিত্ব। খালের বুক চিরে কসাইখানা চালু করার সিদ্ধান্ত জনগণের সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নীরব ভূমিকাই দখলদারদের সাহসী করে তুলছে। জনগণ জেগে উঠেছে—এবার কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন প্রশ্ন রাখেন, “খালই যদি না থাকে, সাতক্ষীরার পরিবেশ টিকবে কীভাবে? আগামী প্রজন্মের জন্য এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।”
শাম্মী আক্তার কুমকুম বলেন, “খাল দখল ও দূষণে শিশুদের খেলাধুলা, মাছের আবাস, কৃষির সেচ সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।”
বক্তারা প্রাণসায়ের খালকে “সাতক্ষীরার লাইফলাইন” আখ্যায়িত করে বলেন, খাল রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়ী থাকবে প্রশাসন। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তারা।
জানা গেছে, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করেছে। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ রিটকে তোয়াক্কা না করে খালের ধারে কসাইখানা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। সচেতন মহল বিষয়টিকে সাতক্ষীরার অস্তিত্বের ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।

















