শ্যামনগর

শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসে হস্তশিল্প মেলা ও নারী সমাবেশ

  এম কামরুজ্জামান, শ্যামনগর ব্যুরো ১৫ অক্টোবর ২০২৫ , ৪:৩৮:০৬ অনলাইন সংস্করণ

“গ্রামীণ নারীর অবদান, টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন। এ উপলক্ষে আয়োজিত হস্তশিল্প মেলা ও নারী সমাবেশে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারা তাদের হাতের কাজ প্রদর্শন ও বিক্রির মাধ্যমে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছেন।
বেসরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় সবুজ সংহতি, গোপালপুর ঋষিপাড়া সংগঠন এবং গোপালপুর কৃষি নারী যুব সংগঠন এ অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক ছিল। মেলায় অংশ নেয়া ১২টি স্টল প্রদর্শন করেছিল বাঁশ-বেতের জিনিসপত্র, পাটের হস্তশিল্প, পরিবেশবান্ধব ব্যাগ, নারিকেল খোলের সাজসজ্জার সামগ্রী, শাঁখা-ঝিনুকের অলংকার, মাটির পাত্র এবং বিভিন্ন স্থানীয় খাদ্য ও সেলাই-কাঁথার শিল্প।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রবীণ সমাজসেবী কেশব দাস। এরপর নারী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দেলোয়ারা বেগম, সহ-সভাপতি, সবুজ সংহতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলার। প্রধান অতিথি ছিলেন মাধব চন্দ্র মন্ডল, চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কর্নফুলি রানী দাস, বাসন্তী রানী, পুতুল রানী, নিরাঞ্জন দাস, বারসিক কর্মকর্তা প্রতিমা রানী, বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা প্রতিদিন জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তারপরও তারা পরিবার ও সমাজে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদান রাখছেন। গ্রামীণ নারীদের সংগ্রামী জীবনের গল্পই টেকসই উন্নয়নের অনুপ্রেরণা।”
এ ধরনের মেলা নারীদের উৎপাদনশীল কর্মকান্ডে উৎসাহিত করে এবং তাদের তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন মানেই টেকসই পরিবার ও সমাজ গঠন।
মেলায় অংশ নেওয়া নারী উদ্যোক্তা পুতুল রানী বলেন, “আমাদের হাতে তৈরি জিনিসের চাহিদা আছে। এই ধরনের মেলায় আমরা পণ্যের দাম বুঝতে পারি, ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, আবার নতুন কিছু শেখার সুযোগও হয়।” তিনি আরও জানান, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় বাঁশের চাষ কমে গেছে। ফলে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের পরিশ্রম সঠিকভাবে মূল্যায়ন পাচ্ছে না।”
দিনব্যাপী আয়োজনটি ছিল আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গ্রামীণ নারীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়। স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষক, যুব প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা এতে অংশগ্রহণ করেন। ১৫০ জনের উপস্থিতিতে গোপালপুর বটতলা প্রাণবন্ত ও বর্ণিল উৎসবের মঞ্চে পরিণত হয়।

আরও খবর