ডেস্ক রিপোর্ট ১০ নভেম্বর ২০২৫ , ২:২৪:৩৩ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামে বেতনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় বায়তুস্ সালাম জামে মসজিদ। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দুলছে। প্রতিদিনই ভাঙনের পরিধি বাড়ছে, মসজিদের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং অজুখানার একটি অংশ ইতোমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস ধরে নদীভাঙন ক্রমাগত বেড়ে চলছে। এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, নদী খননের সময় সংরক্ষিত ভরাট অংশ বাদ দিয়ে ভাঙনপ্রবণ জায়গায় খনন করায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। খননের মাত্র ছয় মাসের মাথায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়, যা এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
পাথরঘাটার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রশিদ বলেন, “আমরা এই মসজিদে নামাজ আদায় করি। কিন্তু এখন প্রতিদিন ভাঙনের ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে। দুই মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডে গিয়ে বিষয়টি জানিয়েছি। কর্মকর্তারা আশ্বাস দিলেও এখনও কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দেখা যায়নি।” তিনি আরও জানান, মসজিদ কমিটি নিজেদের উদ্যোগে ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে অস্থায়ী প্রতিরোধের কাজ শুরু করলেও গতি খুবই ধীর।
আরেক স্থানীয় রফিকুল ইসলাম বলেন, “মসজিদের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। যেকোনো সময় মসজিদটি নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। দ্রুত টেকসহ বাঁধ দিয়ে সংস্কার না করলে পুরো মসজিদ হারিয়ে যাবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, পাথরঘাটা বেতনা নদীর বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন (পাউবো-২) হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার করা প্রয়োজন। নইলে শুধু মসজিদই নয়, আশপাশের শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশিকুর রহমান বলেন, “ঝাউডাঙ্গা মসজিদ সংলগ্ন ভাঙনের জায়গায় সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। খুব শিগগিরই কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
একই বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই মসজিদ সংলগ্ন বাঁধের সংস্কার কাজ শেষ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, এখনই যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বায়তুস্ সালাম জামে মসজিদসহ আশপাশের এলাকা বেতনা নদীর গর্ভে হারিয়ে যাবে।

















