ডেস্ক রিপোর্ট ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:২৯:০৬ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা সদর-২ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। শহর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল, সব জায়গাই এখন প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্রতিকে মুখর। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রউফ, জামায়ত মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মোঃ আশরাফুজ্জামান আশু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মুফতী রবীউল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ এর মটর গাড়ি প্রতীক নিয়ে মোঃ ইদ্রিস আলী ভোটারদের কাছে সমর্থন চাইছেন।
আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি দেশের সঙ্গে সাতক্ষীরার চারটি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী উত্তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় শহর এবং গ্রামে রাস্তাঘাট যেন নতুন রঙে সজ্জিত হয়েছে। ব্যানার ও ফেস্টুনে মুখর প্রতিটি কোণ যেন ভোটের আগেই ভোটারদের মন জয় করতে চাচ্ছে। প্রার্থীরা শুধু প্রতিশ্রæতি দিয়ে ক্ষান্ত হচ্ছেন না, তারা সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বিশ্বাস ও সমর্থন চাইছেন।
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ মানুষ এমন একজন প্রতিনিধি দেখতে চায়, যিনি বিপদে-আপদে তাদের পাশে থাকবে। শহরের ব্যবসায়ী মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা চাই আমাদের প্রতিনিধি শুধু নির্বাচনের সময় কথা বলবে না। আমাদের জলাবদ্ধতা দূর করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবে।”
গৃহিণী মীনা আক্তার যোগ করেন, “ভোটের দিন আমরা চাই নির্বিঘেœ কেন্দ্রে গিয়ে আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারি। কোনো ধরণের সহিংসতা আমরা মেনে নেব না।”
শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, “প্রার্থীরা যতোই প্রচারণা চালাক, আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের ভোট নিরাপদে ব্যবহার করার সুযোগ থাকা। আমরা চাই নির্বাচন সুষ্ঠু হোক।”
কলেজ শিক্ষার্থী সুমি খানম বলেন, “নতুন প্রার্থী হোক বা পুরনো, আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা কি বাস্তব কাজ করতে পারে। প্রতিশ্রæতির চেয়ে কাজে বিশ্বাস রাখতে চাই।”
কৃষক আবদুল মজিদ যোগ করেন, “আমরা চাই প্রার্থী আমাদের সমস্যার কথা শুনবে। জলাবদ্ধতা, রাস্তা ও বিদ্যুতের সমস্যা দূর হবে এটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
দোকানদারী নারী রিন্তা খাতুন বলেন, “প্রার্থী আমাদের সঙ্গে আসে, আমাদের সমস্যা বোঝে, আমাদের পাশে দাঁড়ায় এটাই আমরা চাই। নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ হয়, সেটা অত্যন্ত জরুরি।”
যুবক মেহেদী হাসান বলেন, “আমাদের ভোট যেন মূল্যবান হয়। আমরা চাই প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুক, যাতে আমরা নিরাপদে ভোট দিতে পারি।”
নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। শহর ও গ্রামে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকি করার জন্য মাঠে কাজ করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। তারা প্রতিদিন প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজন হলে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
সাতক্ষীরার চারটি আসনে ভোটগ্রহণের আগের এই মুহূর্তে জেলা জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ, প্রার্থীদের সরাসরি প্রচারণা এবং প্রশাসনের তৎপরতার সমন্বয় যেন ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের আশা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রতিকের রঙ যেন ভোটারদের মনকে উদ্দীপ্ত করছে। ভোটাররা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য।

















