শ্যামনগর

শ্যামনগরে শ্রেণিকক্ষের সংকট: বারান্দায় রোদ-বৃষ্টিতেই চলছে পাঠদান

  শ্যামনগর প্রতিনিধি ২০ আগস্ট ২০২৫ , ১:৪৩:৫০ অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৭৫ নং নকিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকটে বারান্দাতেই চলছে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয়ের ৩৬৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ৪টি কক্ষ। এর মধ্যে একটি কক্ষ প্রাক-প্রাথমিকের জন্য বরাদ্দ থাকায় বাকি শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে কিংবা খোলা বারান্দায় বসেই ক্লাস করতে হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী বারান্দায় বসে রৌদ্রের তীব্র উত্তাপ সহ্য করে ক্লাস করছে। এসময় কেউ কেউ গরমে বিরক্ত হয়ে পড়াশোনায় অনীহা প্রকাশ করে। বিদ্যালয়টি পৌরসভার মধ্যে অবস্থিত হলেও দীর্ঘদিনেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তরু মন্ডল জানায়, “বারান্দায় ক্লাস করলে বাইরে মানুষের হাঁটাহাটি ও যানবাহনের শব্দে পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। রোদে ড্রেস ভিজে যায়। আবার বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যাওয়ার ভয় থাকে।”
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ফৌজিয়া আক্তার বলে, “বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ চমকালে খুব ভয় লাগে। দৌড়ে অন্য শ্রেণিকক্ষে ঢুকে যাই। বাতাসে ভিজে যাওয়া আমাদের নিত্যকার ঘটনা।”

শিক্ষকদের অসহায়ত্ব
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা কষ্ট পাচ্ছে। গরমে, বৃষ্টিতে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।”
প্রধান শিক্ষক গ. ম. জাহাঙ্গীর ফারুক বলেন, “প্রাক-প্রাথমিকের জন্য একটি কক্ষ আলাদা রাখা হয়েছে। ফলে বাকি কক্ষে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির পাঠদান চালাতে গিয়ে চরম সংকটে পড়তে হচ্ছে। প্রতিটি শ্রেণির ২টি করে শাখা থাকায় বাধ্য হয়ে বারান্দায় ক্লাস নিতে হয়। স্কুলে জায়গার স্বল্পতা থাকলেও বহুতল ভবন নির্মাণ করা গেলে সংকট দূর করা সম্ভব। আমাদের আরও অন্তত ৮টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন।”

অতীতের ঐতিহ্য, বর্তমানের সংকট
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। তৎকালীন জমিদার হরিচরণ প্রতাপ আদিত্য রায়বাহাদুর এটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পুরনো ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। ২০২৩ সালে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরনো ভবন টেন্ডারের মাধ্যমে ভাঙা হলেও ২ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।

শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, “আগে যশোর শিক্ষা বোর্ডে ডিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে বরাদ্দ বাতিল হয়ে যায়। তবে নতুন বরাদ্দ এলে ৭৫ নং নকিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অগ্রাধিকার পাবে।”

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: রনী খাতুন বলেন, “বিষয়টি আমরা জানি। এগুলো সময়সাপেক্ষ কাজ। তবে পিইডিপি-৫ এর আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
প্রায় পাঁচ দশক আগে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি আজ অবহেলা আর অব্যবস্থাপনার কারণে চরম সংকটে পড়েছে। কোমলমতী শিক্ষার্থীরা বারান্দায় রোদ-বৃষ্টিতে বসে পড়াশোনা করছে। দ্রুত বহুতল ভবন নির্মাণ করে শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-অভিভাবকরা।

আরও খবর