আলী মুক্তাদা হৃদয় ২৭ আগস্ট ২০২৫ , ৫:৩০:৩১ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা শহর, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত, গত কয়েক বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নদী ভাঙন, বন্যা, লবণাক্ত পানি এবং তাপমাত্রার উর্ধ্বগতিসব মিলিয়ে শহরের জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে। বর্ষার সময় শহরের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে যায়, বাজার, স্কুল এবং সরকারি অফিসগুলো বন্ধ থাকে, মানুষ দারিদ্র্য, অসুবিধা এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে জীবন কাটায়।
শুধু সমস্যা নয়, স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি, স্কুল-কলেজ এবং এনজিওগুলো একসাথে কাজ করে শহরটিকে জলবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং জনগণের সচেতনতা অপরিহার্য।
সাতক্ষীরা শহরের মানুষ বছরের নির্দিষ্ট সময়েই বন্যার মোকাবিলা করতে হয়। বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পায়, শহরের নালা ও খাল অব্যবস্থাপনার কারণে রাস্তা, বাজার ও আবাসিক এলাকা প্লাবিত হয়। নাগরিকদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতি বর্ষায় অল্প বৃষ্টিতেই শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা, সরদারবাড়ী, রসুলপুর, কুখরালী, বাঁকাল, মুনজিতপুর, মাছখোলাসহ বিভিন্ন জায়গা প্লাবিত হয়ে পড়ে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে নাগরিক জীবনে তৈরি হয় চরম ভোগান্তি।
পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার স্থানীয় দোকানদার আব্দুল কাদের বলেন, “আমাদের এই এলাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়। দোকান বন্ধ রাখতে হয়, ব্যবসা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। আগে এমনটা হতো না, এখন জলবায়ুর পরিবর্তনে বৃষ্টি বেশি হয় আর পানি নামতে চায় না। ফলে প্রতিবারই আমরা ক্ষতির মুখে পড়ি।”

মুনজিতপুর বাসিন্দা প্রিন্টিং প্রেস শ্রমিক মোঃ মজনু গাজী জানান, “ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে যায়। বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। এই কষ্ট প্রতি বছরই বাড়ছে। জলবায়ুর কারণে এখন বর্ষা দীর্ঘ হচ্ছে, ভারী বৃষ্টিও বাড়ছে, তাই আমরা আরও ভোগান্তিতে পড়ছি।”
কুখরালী এলাকার বাসিন্দা, শারমিন আক্তার বলেন, “স্কুলে যেতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীরা কাদা-পানি পেরোতে পারে না। অনেক দিন ক্লাস বন্ধ থাকে। আগে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানি নামত, এখন দিন-দিন জমে থাকে। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন হচ্ছে।”
ব্রহ্মরাজপুরের কৃষক মোঃ শামছুজ্জামান আকাশ কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, “আমাদের ধান-সবজি সব পানির নিচে ডুবে যায়। প্রতিবারই ঋণ করে চাষ করতে হয়, আবার ক্ষতি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় কৃষি এখন আর টেকসই থাকছে না।”
লাবসা দেবনগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আবু সাঈদ বলেন, “বাড়ির ভেতরে পানি উঠলে রান্না করা, বাচ্চাদের পড়াশোনা সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। প্রতি বছর পানির স্তর যেন আরও বাড়ছে। জলবায়ু বদলানোর কারণে আমরা এখন বছরের পর বছর একই কষ্টে ভুগছি।”
মিলবাজার এলাকার চাকুরীজিবী আবু রায়হান বলেন, “বাজারে পানি ঢুকলে ক্রেতা আসেই না। কয়েকদিন ব্যবসা বন্ধ থাকলে সংসার চালানো যায় না। আগে এমন পানি জমে থাকত না, এখন জলবায়ুর পরিবর্তনে প্রবল বর্ষণ বাজার অচল করে দেয়।”
নাগরঘাটায় পথচারী আবু মারুফ হুসাইন বলেন, “এই এলাকায় পানি জমলে রিকশা-ভ্যান চলতে পারে না। মানুষের চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীর পানি বাড়ছে, বৃষ্টি হচ্ছে বেশি এজন্য আমাদের এই কষ্ট আরও তীব্র হচ্ছে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাতক্ষীরা শহর প্রতিবছর আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নগরবাসী মনে করেন, টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনঃখনন এবং পরিবেশবান্ধব শহর পরিকল্পনা ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।
সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক মাশরুবা ফেরদৌস বলেন, “শহরের প্রধান খাল ও নালা নিয়মিত খনন ও পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছি। জমির স্বল্পতা, অপ্রতুল বাজেট এবং পুরোনো অবকাঠামোর কারণে কাঙ্খিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি নতুন ডাস্টবিন বসাতেও অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে বাধার সম্মুখীন হতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৌরসভা উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
শহরের পানীয় ও সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা খুব বেশি। তবে নদী ও নালা থেকে লবণাক্ত পানি শহরের মাটিতে প্রবেশ করছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাতক্ষীরা শহরের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দিনদিন বাড়ছে। একদিকে তাপমাত্রা বেড়ে গ্রীষ্মকালে দীর্ঘস্থায়ী তাপদাহ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতা পানিবাহিত রোগের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে মানুষের পানীয় জলের উৎস দূষিত হয়, ফলে ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য গ্যাস্ট্রো-ইনটেস্টাইনাল রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরমে মানুষ ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়। শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষেরা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি না পাওয়া ও ছায়াযুক্ত জায়গার অভাব তাদের জন্য বাড়তি কষ্ট ডেকে আনে। অন্যদিকে, জলাবদ্ধ পানি মশার প্রজননের ক্ষেত্র তৈরি করে, যার কারণে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগ প্রতি বছরই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
সাতক্ষীরা উপকূলীয় জেলা হওয়ায় জলবায়ুর প্রভাব এখানে আরও প্রকট। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নদী ও খালের পানি শহরের ভেতরে প্রবেশ করে লবণাক্ততা বাড়ায়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিকে জটিল করে তোলে। লবণাক্ত পানির ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগসহ দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শহরে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, জরুরি চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন এবং পরিচ্ছন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একইসাথে, স্কুল-কলেজ ও পাড়া-মহল্লায় শিক্ষামূলক কার্যক্রম বাড়ানো গেলে মানুষ নিজেরাই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, “বর্ষাকালে আমরা ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস এবং ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগী বাড়তে দেখি। সচেতনতা বৃদ্ধি ও পানি সুরক্ষা আমাদের প্রধান টুল। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা শিক্ষামূলক সেশন ও স্বাস্থ্য ক্যাম্প চালাচ্ছি।”
শহরের স্কুল ও কলেজগুলোতেও পরিবেশ শিক্ষার কার্যক্রম চলছে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ আবু রায়হান বলেন, “আমরা নদী পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ এবং প্লাস্টিক কমানোর কাজে অংশ নিচ্ছি। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে শহরের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করি আমাদের উদ্যোগ শহরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।”
এছাড়া স্থানীয় কমিউনিটি ও এনজিও ও জলবায়ু ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিবেশ সচেতন যুবক-যুবতীরা শহরের স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরার সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমরা এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পরিবেশ রক্ষায় প্রতিবছরই ভিবিডি সাতক্ষীরার পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গত বছর আমরা প্রায় ১২ হাজার গাছ রোপণ করেছি। এবছরও সেই ধারাবাহিকতায় নতুন উদ্যোগ শুরু করেছি। শুধু গাছ লাগানো নয়, আমরা পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, নদী-খাল রক্ষায় প্রচারণা, এবং স্থানীয় স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।”

ইব্রাহিম খলিল আরও বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সবুজে ঘেরা, জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই সাতক্ষীরা গড়ে তোলা। এজন্য তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে আমরা পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।”
শহরের বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই এসব পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন। সাতক্ষীরা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, “আগে বর্ষার সময় আমাদের এলাকা প্লাবিত হতো। দোকান-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এখন প্রশাসন ও কমিউনিটির উদ্যোগের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আশা করি ভবিষ্যতে পুরো শহরই ঝুঁকি মুক্ত হবে।”
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় শহরগুলোতে ঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাতক্ষীলা জলবায়ু পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বলেন, “সাতক্ষীরা শহরের মতো উপকূলীয় শহরগুলোতে ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রশাসন ও কমিউনিটি একসাথে কাজ করলে এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। নদী সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতা কার্যক্রম সব মিলিয়ে শহরের জীবন নিরাপদ রাখা সম্ভব।”
শিশু ও যুব সমাজও সচেতনতার অংশ। শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পরিবেশ শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিশু ও কিশোররা নদী পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ এবং প্লাস্টিক কমানোর কাজ করছে। শিক্ষার্থী মাসুমা আক্তার সুমি বলেন, “আমরা ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়াচ্ছি। আশা করি আমাদের উদ্যোগ শহরের মানুষকে সচেতন করবে এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমাবে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে বাঁচার জন্য সাতক্ষীলা জলবায়ু পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী কয়েকটি কার্যকর উপায় জানিয়েছেন: নদী ও খাল সংরক্ষণ: নিয়মিত খনন ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে প্লাবনের পানি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বৃক্ষরোপণ : লবণাক্ততা কমানো এবং মাটির ক্ষয় রোধে সহায়ক। পানি সংরক্ষণ ও ফিল্টার ব্যবস্থা : লবণাক্ততা এবং পানির সংকট কমাতে। কমিউনিটি সচেতনতা : স্থানীয় মানুষকে ঝুঁকি ও বাঁচার উপায় সম্পর্কে জানানো। প্রশাসনিক বাঁধ ও ড্রেনেজ প্রকল্প : শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বন্যা প্রতিরোধে। শিক্ষা ও জনসচেতনতা : স্কুল, কলেজ ও স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি।পানি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই প্রযুক্তি : পানির স্তর নিয়ন্ত্রণ ও সেচের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার।
সাতক্ষীরার শহরের উদ্যোগগুলো প্রমাণ করছে, শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, স্থানীয় মানুষ এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ ছাড়া শহরকে জলবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। বর্ষার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, লবণাক্ততা রোধ এবং পানি সংরক্ষণ সবই একসাথে করলে শহরের জীবন ও জীবিকা নিরাপদ রাখা সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “প্রতিটি ছোট উদ্যোগ শহরের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে। নদী পরিচ্ছন্ন রাখা, বৃক্ষরোপণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থাÍসব মিলিয়ে আমাদের জীবন নিরাপদ হবে।”
জলবায়ু পরিবর্তন একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। তবে সাতক্ষীরার মডেল অন্য উপকূলীয় শহরের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। প্রশাসন, কমিউনিটি ও নাগরিক একসাথে কাজ করলে শহরকে ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ব্যবহার, স্থানীয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা এই চারটি মূল উপাদান শহরের মানুষের জীবনকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম।
সাতক্ষীরা শহরের মানুষ, প্রশাসন এবং কমিউনিটি একসাথে কাজ করে শহরকে জলবায়ুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। পরিকল্পিত নালা-খাল খনন, নদী সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, পানি সংরক্ষণ এবং সচেতনতা কার্যক্রমএই সব উদ্যোগ মিলেই শহরের মানুষকে ঝুঁকি থেকে বাঁচানোর পথ দেখাচ্ছে।

















