সাতক্ষীরা

ঈদের স্মৃতি নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

  মো. রাজু সিদ্দিকী ১৪ জুন ২০২৫ , ৪:৫৮:১১ অনলাইন সংস্করণ

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাতক্ষীরার ঢাকামুখী যাত্রীরা। সড়কই একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় চাহিদার তুলনায় বাস সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তি ভাড়া দিয়েও টিকিট মিলছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গিতা মোড়, নিউ মার্কেট ও বাস টার্মিনাল এলাকায় কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই সকাল থেকে দীর্ঘ অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থেকেও পাচ্ছেন না কাক্সিক্ষত বাসের টিকিট।
সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় যাওয়ার কোনো রেল বা নৌপথ নেই। ফলে যাত্রীদের একমাত্র ভরসা সড়ক পথে বাস সার্ভিস। ঈদের ছুটির পর রাজধানীমুখী মানুষ বাড়তে থাকায় বাসের ওপর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।
পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে এখন কর্মস্থলে ফিরতে ব্যস্ত যাত্রীরা। সাতক্ষীরার সঙ্গিতা মোড়ে অবস্থিত বিভিন্ন বাস কাউন্টারে দেখা গেছে উৎসবমুখর ভিড়। গ্রীন লাইন, টুঙ্গিপাড়া, ইমাদ, একে ট্রাভেলস, এসপি গোল্ডেন লাইন এবং সাতক্ষীরা লাইন পরিবহনের বাসগুলো নিয়মিত ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে।
সঙ্গিতা মোরে বাস কাউন্টারে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসেছিলাম। এখন ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। এসপি গোল্ডেন লাইনের সকাল ৭টার বাসে টিকিট নিয়েছি। বাসটি সময়মতো ছাড়ে এবং সাধারণত আরামদায়ক। তবে রাস্তার কিছু জায়গায় যানজট থাকায় সময় একটু বেশি লাগে।”
বেসরকারি চাকরিজীবী নাজনীন আক্তার শেয়ার করেন তাঁর অভিজ্ঞতা, “সাতক্ষীরা লাইন পরিবহনের সেবা বেশ ভালো। গতবার রাত ৯:৫০-এর বাসে ঢাকা গিয়েছিলাম, সকাল ৯:১০-এ পৌঁছেছি। তবে ঈদের সময় ভিড় বেশি থাকায় আগেভাগে টিকিট বুক করা জরুরি। কাউন্টারের কর্মীদের ব্যবহারও সন্তোষজনক।”
তবে সবার অভিজ্ঞতা একরকম নয়। ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গ্রীন লাইনের বাসে এসি সুবিধা ভালো, কিন্তু ভাড়া একটু বেশি। এ ছাড়া রাস্তায় কিছু অংশে সড়কের অবস্থা ভালো না, ফলে যাত্রা কিছুটা অস্বস্তিকর হয়। তবে চালক ও স্টাফদের সহযোগিতা ভালো।”
ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের চাপ বাড়ায় কিছু কিছু কাউন্টারে টিকিটের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কলেজছাত্রী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের বাসে টিকিট পেতে একটু অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে কাউন্টারের লোকজন সহযোগিতা করেছেন। আশা করি রাস্তায় যানজট কম থাকবে।”
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা লাইন পরিবহনের একজন কাউন্টার প্রতিনিধি জানান, “আমরা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। ঈদের সময় চাপ বেশি থাকলেও আমাদের বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়ে এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।”
পবিত্র ঈদুল আজহার পর সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের জন্য সংগীতা মোরের বাস কাউন্টারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রীন লাইন, এসপি গোল্ডেন লাইন, সাতক্ষীরা লাইনসহ বিভিন্ন পরিবহন সংস্থা যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তবে রাস্তার অবস্থা উন্নতি এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে আরও উদ্যোগ নেওয়া গেলে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও সুখকর হবে বলে মনে করেন অনেকে।

আরও খবর