কালিগঞ্জ প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০২৫ , ৩:০২:৪৫ অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে ভোগদখলকৃত একটি মাছের ঘের জবরদখল ও লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে গণিয়ার রহমান ওরফে গণি (৫৬) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মো. নাহিন আহম্মেদ।
বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাঁকশিয়ালী গ্রামের মাস্টার আব্দুল ওহাবের ছেলে মো. নাহিন আহম্মেদ জানান, তার বড় ভাই ফিরোজ কবির (৪৭) প্রায় তিন বছর আগে কাঁকশিয়ালি গ্রামের মরহুম এন্তাজ আলী গাজীর ছেলে মো. আব্দুল খালেক গাজীর কাছ থেকে বাথুয়াডাঙ্গা মৌজার (জেএল নং-৪৬) এলএ কেস নং ১৮৯/৬৩-৬৪ ও ৮৯/৬৪-৬৫, এসএ দাগ নং ১৭৩৩ ও ১৭৩৪-এর আওতাধীন ৪০ শতক জমিতে অবস্থিত একটি মাছের ঘের ক্রয় করেন। এরপর থেকে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে মাছ চাষ করে আসছিলেন।
তিনি বলেন, “ভাই খুলনায় চাকরিরত থাকায় আমি ঘেরটি দেখাশোনা করি। কিন্তু পাশের ঘের মালিক গণিয়ার রহমান গণি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ঘেরটি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। গত ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ঘেরটি জবরদখল করে নেয়। ওই সময় তারা ঘের থেকে বাগদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করে নেয়।”
নাহিন আহম্মেদ আরও বলেন, “ঘটনার পর আমি সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করলে গণি ও তার লোকজন বলেন, এটি নাকি সরকারি খাস জমি এবং তারা দখলে রাখবে। আমি পূর্ব মালিকানা ও ৫০ বছরের দখল দেখালেও তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও খুন-জখমের হুমকি দিতে থাকে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলেও গণি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিন আহম্মেদ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে তার ভাইয়ের মালিকানাধীন মাছের ঘের পুনরায় দখলে এনে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়।

















