সাতক্ষীরা

ভারতে জাহাজডুবি, নিখোঁজ মামুনের অপেক্ষায় দুই সন্তান

  ডেস্ক রিপোর্ট ২৫ আগস্ট ২০২৬ , ৫:০৭:৪৯ অনলাইন সংস্করণ

প্রতিদিন সকাল, বিকেল কিংবা রাতে মায়ের মোবাইল ফোনটির দিকে তাকিয়ে থাকে পাঁচ বছরের মারিফুল জান্নাত। ফোন বাজলেই তিন বছরের ছোট ভাই মোয়াজ আব্দুল্লাহকে নিয়ে দৌড়ে যায় ফোনের কাছে। তাদের বিশ্বাস, সমুদ্রে কাজের ফাঁকে ভিডিও কল দিয়ে বাবা কথা বলবেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে সেই ফোন আর বাজছে না। বাবার অপেক্ষায় নির্বাক হয়ে আছে দুই শিশু।

ভারতের উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডুবে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। জাহাজটির নেভিগেশন ব্যবস্থায় ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করা হতো বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা এলাকার বাসিন্দা ডক্টর আব্দুর রহিমের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, গত বুধবার মামুনের সঙ্গে পরিবারের সর্বশেষ ফোনালাপ হয়। সেদিনও তিনি সন্তানদের খোঁজখবর নিয়েছিলেন। এরপর শনিবার দুপুরে পরিচিতদের মাধ্যমে জাহাজে যান্ত্রিক গোলযোগ ও ডুবে যাওয়ার খবর জানতে পারেন স্বজনেরা। এরপর থেকেই পরিবারের মধ্যে নেমে এসেছে উৎকণ্ঠা।

মামুনের বাড়িতে এখন স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। সবার চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। তবে পরিস্থিতির গভীরতা এখনো বুঝতে পারেনি তাঁর দুই সন্তান। মোবাইল ফোন বাজলেই তারা ছুটে যায় বাবার ফোন ভেবে। মাঝেমধ্যে মারিফুল মাকে জিজ্ঞেস করে, “মা, বাবা ফোন দিচ্ছে না কেন?” সন্তানের এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর দিতে পারছেন না মামুনের স্ত্রী।

নিখোঁজ মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের বাবা ডক্টর আব্দুর রহিম বলেন, “কাজের প্রয়োজনে ছেলে মাসের পর মাস সমুদ্রে থাকে। এই ফোন কলগুলোই ছিল আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম। জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর এত সময় পার হয়ে গেলেও ছেলে বেঁচে আছে কি না, সেই নিশ্চিত খবরটুকুও আমরা পাচ্ছি না। ফোন বাজলেই বাচ্চারা ছুটে যায়। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি আমার ছেলের সঠিক খবর এনে দেওয়া হোক।”

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ জানান, ঘটনাটি জানার পরই নিখোঁজ ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের উদ্ধারকারী দল ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সার্বিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে মামুনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য তাঁর পরিবারকে জানানোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে, বাবার ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে মামুনের দুই শিশু সন্তান। পরিবারের উৎকণ্ঠার সঙ্গে এখন মিশে আছে শুধু একটাই প্রার্থনা সমুদ্র থেকে নিরাপদে ফিরে আসুন তাদের বাবা।

আরও খবর