শ্যামনগর

শ্যামনগরে বিশ্ব মৌমাছি দিবস পালন

  শ্যামনগর প্রতিনিধি ২০ মে ২০২৫ , ৩:২১:৩০ অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ব মৌমাছি দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে আজ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মৌয়াল, মৌচাষী, নারী, শিশু, যুব, গৃহিণী, পরিবেশ কর্মী এবং সমাজ কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

প্রতি বছর ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস পালিত হয়, যা মৌমাছি এবং অন্যান্য পরাগরেণু সৃষ্টিকারী প্রাণীদের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এবারের আয়োজনে বুড়িগোয়ালিনীতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এর সহায়তায় এবং সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম, সবুজ সংহতি ও বনজীবি নারী উন্নয়ন সংগঠন আয়োজিত এই আলোচনা সভা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বনজীবি নারী উন্নয়ন সংগঠন এর সভাপতি শেফালী বিবি।

বারসিক এর কর্মসূচী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মন্ডল এর সঞ্চালনায় বক্তারা মৌমাছির পরিবেশগত গুরুত্ব এবং মধু উৎপাদন ও পরাগায়নে তাদের ভূমিকার ওপর জোর দেন। সুন্দরবন সংলগ্ন এই অঞ্চলে মৌমাছি পালন ও মধু সংগ্রহ একটি ঐতিহ্যবাহী পেশা। বক্তারা মৌমাছি পালনে আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

উপস্থিত মৌয়াল ও মৌচাষীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং মৌমাছি পালনে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বারসিক এর সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার। তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ও গৃহিণীরা মৌচাষকে পারিবারিক আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে এখন আগ্রহ প্রকাশ করছে। তরুণ প্রজন্মকে মৌমাছি পালনে উৎসাহিত করতে উপস্থিত সবাই যুবদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়।

স্থানীয় বনজীবি মো. ছফেদ আলী সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় মৌমাছির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নির্বিচারে বন উজাড় ও কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, মৌমাছি পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বারসিক এর বিধান মধু, মারুফ হোসেন মিলন, চম্পা মল্লিক, আবুল কালাম আজাদ, বরষা গাইন, মনিকা পাইক, প্রতিমা চক্রবর্তী, যুব সংগঠক স.ম ওসমান গনী সোহাগ, উপজেলা যুব স্বেচ্ছাসেবী সমন্বয় কমিটির সদস্য মো. শামীম হোসেন প্রমুখ।

আলোচনা শেষে, অংশগ্রহণকারীরা মৌমাছি সংরক্ষণে এবং পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করে প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি মৌচাষীদের সরকারি প্রোনদনা, প্রকৃত মৌয়ালদের তালিকা প্রস্তুতকরণ, বিষটোপ নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা সহ প্রকৃতি ধ্বংসকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানান। এই আয়োজনের মাধ্যমে মৌমাছির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও খবর