সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ প্রতিনিধি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৬:১০:২০ অনলাইন সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠে উৎসব। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নিজস্ব প্রতীক নিয়ে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর ব্যতিক্রম নয় সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ ও আশাশুনি) সংসদীয় আসন।
এই আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম ফুটবল প্রতীকে, জাতীয় পার্টি মনোনীত নাঙ্গল প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলিফ, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী কাজী ওয়াজ কুরুনী হাতপাখা প্রতীকে এবং মাইনরিটি পার্টির প্রার্থী রুবেল হোসেন রকেট প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
তবে ভোটারদের মতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. শহিদুল আলম এই তিনজনের মধ্যে হবে প্রধান লড়াই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি কালিগঞ্জ উপজেলার ভোটাররা আঞ্চলিকতার টানে একত্রিত হতেন, তবে বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিনের জয় অনেকটাই সহজ হতে পারত। কিন্তু একই উপজেলার প্রার্থী হিসেবে ডা. শহিদুল আলম নির্বাচনে থাকায় ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা কাজী আলাউদ্দিনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির রাজনীতির দুর্দিনে কাজী আলাউদ্দিন সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়ে দলীয় কর্মীদের খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রায় অর্ধলক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এসব কারণে অনেক ভোটারই আশা করছেন, এবারও তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন।
অন্যদিকে, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. শহিদুল আলম একজন ক্লিম ইমেজের নেতা। দলের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের মামলা-মোকদ্দমায় জামিন করানো থেকে শুরু করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিএনপির তৃণমূলের বড় একটি অংশ তাঁর পক্ষেই ভোট দেবে। এছাড়া ব্যক্তিগত সমর্থক ও মাইনরিটিরও ভোট পেলে জয়লাভ করবে।
এদিকে, ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। তিনি ও তাঁর সমর্থকরা, বিশেষ করে দলীয় নারী কর্মীদের সমন্বয়ে দায়িত্ব ভাগ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। মাঠ পর্যায়ে জামায়াত ইসলামী দলের সুসংগঠিত নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনে এবারের নির্বাচন জমজমাট ও উত্তেজনাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। চায়ের দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের সর্বস্তরে জল্পনা-কল্পনা চলছে। আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ আসনে কে জয়ী হবেন, কোন দল সরকার গঠন করবেন বিএনপি নাকি জামায়াত সেই অপেক্ষায় রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও ব্যস্ত। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ ও জনসভায় লিপ্ত রয়েছেন।

















