আশাশুনি

আশাশুনির বড়দল সড়ক আবারও মরণফাঁদে!

  ডেস্ক রিপোর্ট ৩১ আগস্ট ২০২৫ , ২:৩৪:৫৯ অনলাইন সংস্করণ

দুর্ঘটনার ঝুঁকি, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

আশাশুনি উপজেলার মানিকখালী ব্রিজ থেকে বড়দল মেইন সড়ক পর্যন্ত ফকরাবাদ গার্লস স্কুলের পাশের অংশজুড়ে আবারও তৈরি হয়েছে ভয়ঙ্কর খানাখন্দ। প্রায় ১৫-২০ জায়গায় সড়ক ভেঙে গিয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে এ গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে হাজারো মানুষ। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ খুলনার ঐতিহ্যবাহী বড়দল হাটের একমাত্র সংযোগ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, নসিমন-করিমনসহ যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক চলাচল করছে। এছাড়া আশাশুনি, পাইকগাছা, কয়রা, তালা, শ্যামনগর, দেবহাটা, কালীগঞ্জ ও সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম পথ এটি।
স্থানীয়রা জানান, জামালনগর ফুলতলা, ফকরাবাদ পাওয়ার হাউস ও বুড়িয়া হাসপাতালের সামনে কিছুদিন আগে ইট দিয়ে আংশিক সংস্কার করা হলেও আজব রাস্তার মতো ভাঙাচোরা অবস্থাই রয়ে গেছে। খানা-খন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিদিন গাড়ির চাকা আটকে বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে আশপাশের মানুষদের। অনেক সময় গাড়ি ধাক্কা দিয়ে ছাড়াতে হয়। গর্তে ধাক্কা খেয়ে যাত্রী আহত হওয়া এবং বাসের কাঁচ ভাঙার ঘটনাও নিত্যদিনের।
ফকরাবাদ গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সনাতন বৈরাগী জানান, বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা মারাত্মক গর্তে পরিণত হয়েছে। ১৩২ জন ছাত্রী নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়ছে। একই অভিযোগ করেছেন ফকরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিতা মন্ডল। তাঁর বিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭০ জন প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত মণ্ডল, ভগীরথ মণ্ডলসহ অনেকেই জানান, এ সড়কে দুর্ঘটনা প্রতিদিনের ঘটনা। বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের প্রভাষক মানিক মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন কাদা পানিতে ভিজে ক্লাসে যেতে হয়। শিক্ষার্থী-শিক্ষক কেউই এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছে না।”
বড়দল ইউপি প্রশাসক চেয়ারম্যান আকতার ফারুক বিল্লাহ বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরিভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, কিছুদিন আগে সড়ক আংশিক সংস্কার করা হয়েছিল। আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার না করলে প্রতিদিনই এ পথে দুর্ঘটনা ও দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

আরও খবর